কঠিন: কণাগুলো নিজের জায়গায় থেকে কাঁপছে। তাপ দাও, কাঁপুনি বাড়বে আর তাপমাত্রা উঠবে
নিয়ন্ত্রণ
কোন অবস্থায় যাবে
পরিমাপ
- তাপমাত্রা
- -২০.০°C
- পরম তাপমাত্রা
- ২৫৩.১K
- অবস্থা
- কঠিন (বরফ)
- শোষিত তাপ
- ০J/g
- তাপ যাচ্ছে
- কণার বেগ বাড়াতে
- গড় গতিশক্তি (০ °C-এর তুলনায়)
- ০.৯৩×
- কণা: কঠিন · তরল · গ্যাস
- ৪৮ · ০ · ০
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- সিমুলেশন খুললেই ১ গ্রাম বরফ −২০ °C থেকে নিজে নিজে গরম হতে শুরু করে। বাঁ দিকের বাক্সে কণাগুলো দেখো: কঠিন অবস্থায় প্রতিটি কণা নিজের জায়গায় কাঁপছে। ডান দিকের লেখচিত্রে বিন্দুটা ওপরে উঠছে, আর নিচের “শোষিত তাপ” সংখ্যাটা বাড়ছে।
- ০ °C-এ পৌঁছালে লেখচিত্রের রেখা সমতল হয়ে যায়। পরিমাপ প্যানেলে দেখো “তাপ যাচ্ছে: আকর্ষণ ছিঁড়তে”। শোষিত তাপ বাড়ছে কিন্তু তাপমাত্রা আর গড় গতিশক্তি একই। বাক্সে উপরের সারির কণাগুলো একে একে সবুজ হয়ে গড়াতে শুরু করে, মানে গলে তরল হচ্ছে।
- সবাই তরল হলে তাপমাত্রা আবার ওঠে। ১০০ °C-এ আরেকটা, এবার অনেক লম্বা সমতল অংশ আসে: কমলা কণাগুলো একে একে মুক্ত হয়ে পুরো বাক্সে ছুটতে থাকে। এটাই স্ফুটন। কতটা লম্বা, তা লেখচিত্রের নিচের x অক্ষে মিলিয়ে দেখো।
- যেকোনো সময় “থামাও” চেপে “শোষিত তাপ” স্লাইডার টানো, কিংবা “কোন অবস্থায় যাবে” থেকে একটি ধাপ বেছে নাও। বার্নারের শক্তি বদলাও, দেখো সমতল অংশ পার হতে কত সময় লাগে। “ঠান্ডা করো” টিক দিলে উল্টো পথে ঘনীভবন আর জমাট বাঁধা দেখবে।
গরম কড়াই, ঠান্ডা বরফ, আর অদ্ভুত একটা থার্মোমিটার
শীতের সকালে চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া ওঠে। ফ্রিজ থেকে বের করা বরফ খানিকক্ষণ পরেই পানি হয়ে যায়। ভেজা কাপড় রোদে শুকিয়ে যায়, কাপড়ের পানি তো ফুটছিলই না। তিনটি ঘটনাতেই একই জিনিস আছে: পানি এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় যাচ্ছে।
এবার একটা ছোট্ট পরীক্ষা ভাবো। এক টুকরো বরফ একটা পাত্রে নিয়ে চুলায় বসালে, আর মাঝে মাঝে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপলে। বরফ গলার সময় থার্মোমিটার কিছুক্ষণ ০ °C-এ দাঁড়িয়ে থাকে, অথচ চুলা তো ঠিকই জ্বলছে! পানি ফোটার সময়ও থার্মোমিটার ১০০ °C-এ আটকে যায়। তাপ দিচ্ছি, তাপমাত্রা বাড়ছে না, তাহলে তাপ যাচ্ছে কোথায়?
এই পাতার সিমুলেশনে ঠিক এই পরীক্ষাটাই আছে, তবে কণার চোখ দিয়ে। ১ গ্রাম বরফকে −-২০ °C থেকে ১২০ °C-এর বাষ্প পর্যন্ত গরম করতে মোট ৩,০৯৪ J তাপ লাগে। আশ্চর্য হবে জেনে: এর ৭৩% যায় শুধু ফুটন্ত পানিকে বাষ্প বানাতে, যে সময়টায় তাপমাত্রা একটুও বাড়ে না।
পাঠ্যবইয়ের ভাষায় বিষয়টা হলো পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন আর সুপ্ততাপ। নিচে একদম গোড়া থেকে বুঝব কণারা কীভাবে সাজানো থাকে, তাপ পেলে কী করে, আর কেন তাপমাত্রা থেমে যায়। পাশাপাশি সিমুলেশনে হাতেকলমে মিলিয়ে নেবে।
একদম শুরু থেকে: সবকিছুই ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গড়া
পানির একটি ফোঁটা ভাগ করতে করতে ছোট করতে থাকলে শেষে পৌঁছাবে এক-একটা অণুতে। প্রতি ১৮ গ্রাম পানিতে প্রায় ৬.০২২ × 10²³টি অণু থাকে। তাহলে ১ গ্রাম পানিতে অণুর সংখ্যা প্রায় ৩.৩৪ × 10²²। সিমুলেশনে ৪৮টি বিন্দু আছে, প্রতিটি আসলে অসংখ্য অণুর প্রতিনিধি। ছবিটা মডেল, কিন্তু আচরণটা সত্যি।
পদার্থের গতিতত্ত্ব তিনটি সহজ কথা বলে। এক, পদার্থ ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি। দুই, কণারা সব সময় নড়ছে, তাপমাত্রা যত বেশি নড়াচড়া তত জোরালো। তিন, কণাদের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করে, কাছে থাকলে বেশি, দূরে গেলে কম।
এখন দুটো শক্তির টানাটানি কল্পনা করো। কণার নড়াচড়ার শক্তি (গতিশক্তি) তাদের ছড়িয়ে দিতে চায়। কণাদের পারস্পরিক আকর্ষণ (বিভব শক্তি) তাদের জড়ো রাখতে চায়। যে জেতে, পদার্থ সেই অবস্থায় থাকে। আকর্ষণ জিতলে কঠিন, দুটো প্রায় সমান হলে তরল, নড়াচড়া জিতলে গ্যাস।
আর তাপমাত্রা? তাপমাত্রা হলো কণাদের গড় গতিশক্তির মাপ। পরম তাপমাত্রা (কেলভিনে) দ্বিগুণ হলে গড় গতিশক্তিও দ্বিগুণ। সিমুলেশনের পরিমাপ প্যানেলের “গড় গতিশক্তি” ঘরে এটা সরাসরি দেখবে: ০ °C-কে ১ ধরলে −-২০ °C-এ মান প্রায় ০.৯৩, ১০০ °C-এ ১.৩৭, আর ১২০ °C-এ ১.৪৪।
পদার্থের অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো
সংজ্ঞা লিখতে হলে এই শব্দগুলো নির্ভুল জানা দরকার। প্রথম কলামের শব্দগুলো পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
| শব্দ | অর্থ | মান বা একক |
|---|---|---|
| গলন | কঠিন পদার্থ তাপ নিয়ে তরলে পরিণত হওয়া | বরফ: ০ °C |
| গলনাঙ্ক | যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (নির্দিষ্ট চাপে) কঠিন গলে তরল হয় | ২৭৩.১৫ K = ০ °C |
| স্ফুটন | তরলের ভেতরের সব জায়গা থেকে বাষ্প হয়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় | পানি: ১০০ °C |
| স্ফুটনাঙ্ক | যে তাপমাত্রায় তরলের বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান হয় | পানি ১ atm-এ ৩৭৩.১৫ K |
| বাষ্পীভবন | শুধু তরলের উপরিতল থেকে, যেকোনো তাপমাত্রায়, ধীরে ধীরে গ্যাসে পরিণত হওয়া | — |
| ঘনীভবন | গ্যাস বা বাষ্প তাপ ছেড়ে তরলে পরিণত হওয়া | তাপ বেরোয় |
| হিমায়ন (জমাট বাঁধা) | তরল তাপ ছেড়ে কঠিন হয়ে যাওয়া | তাপ বেরোয় |
| ঊর্ধ্বপাতন | কঠিন সরাসরি গ্যাস হয়ে যাওয়া, মাঝের তরল অবস্থা ছাড়াই | কর্পূর, আয়োডিন, শুষ্ক বরফ |
| আপেক্ষিক তাপ (c) | একক ভরের পদার্থের তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে যে তাপ লাগে | পানি ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹ |
| সুপ্ততাপ (L) | তাপমাত্রা না বাড়িয়ে একক ভরের পদার্থের অবস্থা বদলাতে যে তাপ লাগে | ৩৩৪ J/g (গলন), ২,২৬০ J/g (বাষ্পীভবন) |
কঠিন, তরল, গ্যাসীয়: তিন অবস্থা পাশাপাশি
তিন অবস্থার পার্থক্য মুখস্থ না করে কণার ছবি থেকে বের করা যায়। নিচের টেবিলের প্রতিটি সারি কণার ছবির সরাসরি ফল।
কঠিন: গায়ে গায়ে লেগে কাঁপা
কঠিনে আকর্ষণ বল এত জোরালো যে কণারা নিজের জায়গা ছাড়তে পারে না। শুধু জায়গায় থেকে এদিক-ওদিক কাঁপে। এজন্য একটা কাঠের টুকরো যেখানে রাখো, সেই আকারেই থাকে।
সিমুলেশনে থিমের রঙের কণাগুলো সারি বেঁধে সাজানো। গরম করলে কাঁপুনি বাড়ে, কিন্তু কণা জায়গা ছাড়ে না। তাপমাত্রা যত বাড়ে, কাঁপুনি তত জোরালো হয়, শেষে গলনাঙ্কে বাঁধন ছিঁড়ে যায়।
তরল: কাছাকাছি, কিন্তু গড়িয়ে চলে
তরলে কণারা এখনো প্রায় গায়ে গায়ে, তাই আয়তন প্রায় বদলায় না। কিন্তু নড়াচড়ার শক্তি এখন বাঁধন কিছুটা ঢিলে করার মতো, তাই কণারা একে অপরকে পাশ কাটিয়ে সরে যেতে পারে। এজন্য তরল পাত্রের আকার নেয়, আর ঢাললে বয়ে যায়।
সিমুলেশনে সবুজ কণাগুলো পাত্রের তলায় একটা জমাট দলা বানায়, উপরে ফাঁকা থাকে। সামান্য ফাঁক তরলের ঘনত্ব কঠিনের কাছাকাছি রাখে, এই কারণেই তরলকে চাপ দিয়ে ছোট করা প্রায় যায় না।
গ্যাসীয়: দূরে দূরে, দ্রুত, মুক্ত
গ্যাসে কণারা এত দূরে দূরে যে আকর্ষণ প্রায় টের পাওয়া যায় না। তারা সরলরেখায় ছোটে, দেয়ালে বা অন্য কণায় ধাক্কা খেয়ে দিক বদলায়। তাই গ্যাস যে পাত্রে রাখো তার সবটুকু ভরে ফেলে।
সিমুলেশনে কমলা কণাগুলো পুরো বাক্সে ছড়িয়ে ছুটছে। আসল গ্যাসে কণাদের ফাঁক এর চেয়েও অনেক বেশি, বাক্সে জায়গা কম বলে ছোট করে দেখানো হয়েছে।
| বৈশিষ্ট্য | কঠিন | তরল | গ্যাসীয় |
|---|---|---|---|
| কণার সাজানো | নিয়মিত, গায়ে গায়ে | কাছাকাছি কিন্তু এলোমেলো | অনেক দূরে দূরে |
| কণার নড়াচড়া | নিজের জায়গায় কাঁপে | একে অপরকে পাশ কাটিয়ে গড়ায় | দ্রুত, সরলরেখায় ছোটে |
| আকর্ষণ বল | খুব জোরালো | মাঝারি | নগণ্য |
| আকার | নির্দিষ্ট | নির্দিষ্ট নয়, পাত্রের মতো | নির্দিষ্ট নয়, পুরো পাত্র ভরে |
| আয়তন | নির্দিষ্ট | নির্দিষ্ট | নির্দিষ্ট নয় |
| সংনম্যতা | প্রায় নেই | খুবই কম | সহজে চাপে ছোট হয় |
| ঘনত্ব | সাধারণত সবচেয়ে বেশি | কঠিনের কাছাকাছি | অনেক কম |
| প্রবাহ | বয়ে যায় না | বয়ে যায় | বয়ে যায় |
পানির তাপ–তাপমাত্রা লেখচিত্র: পাঁচটি ধাপ
সিমুলেশনের ডান পাশের লেখচিত্রের x অক্ষে ১ গ্রাম পানিতে যোগ করা তাপ, y অক্ষে তাপমাত্রা। রেখাটা পাঁচটি ধাপে ভাঙা, দুটি ঢালু আর দুটি সমতল, তার সাথে একটা শেষ ঢালু অংশ।
ধাপগুলো ক্রমে পড়ো। ঢালু অংশে তাপমাত্রা বাড়ছে, কণার গতি বাড়ছে। সমতল অংশে তাপমাত্রা স্থির, কণার গড় গতি স্থির, কিন্তু অবস্থা বদলাচ্ছে। এই দুই ধরনের অংশ বোঝাই পুরো অধ্যায়ের চাবিকাঠি।
ধাপ ১: বরফ −-২০ °C থেকে ০ °C (ঢালু)
কঠিন বরফ গরম হচ্ছে। এখানে আপেক্ষিক তাপ ২.১ J g⁻¹ K⁻¹, তাই -২০ °C তাপমাত্রা বাড়াতে ২.১ × -২০ = ৪২ J লাগে। লেখচিত্রের বাঁ দিকের এই ছোট ঢালু অংশ প্রায় চোখে পড়ে না, কারণ x অক্ষের মোট দৈর্ঘ্যের দুই শতাংশেরও কম।
কণারা শুধু আরও জোরে কাঁপে। সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু কেউ জায়গা ছাড়ছে না।
ধাপ ২: ০ °C-এ গলন (সমতল)
এখন তাপমাত্রা আটকে যায় ০ °C-এ। বরফ গলতে প্রতি গ্রামে ৩৩৪ J লাগে। এই ৩৩৪ J কণাদের বেগ বাড়ায় না। এটা খরচ হয় স্ফটিকের নিয়মিত সাজানো ভাঙতে, মানে কণাদের জায়গা ছাড়ার বাঁধন ঢিলে করতে।
সিমুলেশনে এই সময় কঠিন (থিমের রঙ) আর তরল (সবুজ) কণা একসাথে থাকে। রেখা সমতল থাকা পর্যন্ত কণারা একে একে গলে যায়, ৩৩৪ J পুরো হলে শেষ কণাটাও তরল। বার্নারের শক্তি ১০০ J/g/s হলে এই অংশ পার হতে ৩.৩৪ সেকেন্ড লাগে।
ধাপ ৩: পানি ০ °C থেকে ১০০ °C (ঢালু)
এবার সব কণা তরল। পানির আপেক্ষিক তাপ ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹, তাই ১ গ্রাম পানির ১০০ °C বাড়াতে ৪.১৮ × ১০০ = ৪১৮ J লাগে। গলনের ৩৩৪ J-এর তুলনায় এটা সামান্য বেশি, কিন্তু বাষ্পীভবনের তুলনায় অনেক কম।
তরল পানির ঢালু রেখা মোটামুটি সোজা, কারণ আপেক্ষিক তাপ প্রায় স্থির। কণাদের গড় গতি বাড়ছে, তাই সিমুলেশনে সবুজ কণার ছোটাছুটি একটু একটু বাড়তে দেখবে।
ধাপ ৪: ১০০ °C-এ স্ফুটন (সমতল, সবচেয়ে লম্বা)
তাপমাত্রা আবার আটকে যায়, এবার ১০০ °C-এ, আর প্রতি গ্রামে লাগে ২,২৬০ J। এটা গলনের ৬.৮ গুণ, আর পানিকে ০ থেকে ১০০ °C তুলতে যা লাগে তার ৫.৪ গুণ।
এত বেশি কেন? গলনে কণারা কেবল নিজেদের জায়গা ছাড়ে, তবু পরস্পরের কাছাকাছিই থাকে। বাষ্প হতে হলে প্রতিটি কণাকে প্রতিবেশীদের আকর্ষণ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে অনেক দূরে যেতে হয়, তাই অনেক বেশি শক্তি দরকার। সিমুলেশনে বার্নারের শক্তি ১০০ J/g/s হলে এই ধাপে ২২.৬ সেকেন্ড লাগে।
ধাপ ৫: বাষ্প ১০০ °C থেকে ১২০ °C (ঢালু)
সবাই গ্যাস হয়ে গেছে। বাষ্পের আপেক্ষিক তাপ প্রায় ২.০ J g⁻¹ K⁻¹, তাই ১২০ °C পর্যন্ত যেতে আরও ৪০ J লাগে। রেখা আবার ঢালু হয়, তাপমাত্রা ও গড় গতিশক্তি দুটোই বাড়ে।
শেষে মোট ৪২ + ৩৩৪ + ৪১৮ + ২,২৬০ + ৪০ = ৩,০৯৪ J, ঠিক যে সংখ্যা সিমুলেশনের “শোষিত তাপ” শেষ প্রান্তে দেখাবে।
| ধাপ | কী ঘটছে | তাপমাত্রা | লাগে (J) | এখন পর্যন্ত মোট (J) |
|---|---|---|---|---|
| ১ | বরফ গরম হচ্ছে | −-২০ → ০ °C | ৪২ | ৪২ |
| ২ | বরফ গলছে | ০ °C | ৩৩৪ | ৩৭৬ |
| ৩ | পানি গরম হচ্ছে | ০ → ১০০ °C | ৪১৮ | ৭৯৪ |
| ৪ | পানি ফুটে বাষ্প হচ্ছে | ১০০ °C | ২,২৬০ | ৩,০৫৪ |
| ৫ | বাষ্প গরম হচ্ছে | ১০০ → ১২০ °C | ৪০ | ৩,০৯৪ |
দুটি সূত্র: Q = mcΔT আর Q = mL
পুরো লেখচিত্রের গাণিতিক হিসাব দুটি সূত্রে চলে। ঢালু অংশের জন্য একটা, সমতল অংশের জন্য আরেকটা। কোন অংশে কোনটা লাগবে, লেখচিত্র দেখেই বলে দেওয়া যায়।
ঢালু অংশে তাপমাত্রা বদলায়, তাই আপেক্ষিক তাপ লাগে। সমতল অংশে তাপমাত্রা বদলায় না, তাই ΔT শূন্য, এখানে ওই সূত্র কাজ করে না। সেখানে লাগে সুপ্ততাপ।
Q = m c ΔTতাপমাত্রা বদলালে (অবস্থা একই): m ভর, c আপেক্ষিক তাপ, ΔT তাপমাত্রার পরিবর্তন
Q = m Lঅবস্থা বদলালে (তাপমাত্রা একই): L সুপ্ততাপ
T (K) = t (°C) + ২৭৩পরম তাপমাত্রা, গতিশক্তির অনুপাত বের করতে লাগে
গড় গতিশক্তি ∝ T (K)কণাদের গড় গতিশক্তি পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক
প্রতিটি চিহ্নের মানে
Q হলো শোষিত বা বর্জিত তাপ, একক জুল (J)। m হলো ভর, গ্রাম বা কিলোগ্রামে, তবে c আর L-এর এককের সাথে মিলিয়ে নিতে হবে। c হলো আপেক্ষিক তাপ, মানে ১ গ্রামের তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে যা লাগে। L হলো সুপ্ততাপ, মানে ১ গ্রামের অবস্থা বদলাতে যা লাগে।
- পানির c = ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹ (বরফের ২.১, বাষ্পের ২.০)
- বরফ গলনের সুপ্ততাপ L = ৩৩৪ J/g = ৩.৩৪ × 10⁵ J/kg (প্রায় ৮০ cal/g)
- পানির বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ L = ২,২৬০ J/g = ২.২৬ × 10⁶ J/kg (প্রায় ৫৪০ cal/g)
দুটো সূত্র একসাথে লাগলে
একটা অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যেতে গেলে ধাপে ধাপে যোগ করতে হয়: ঢালু অংশের জন্য Q = mcΔT, সমতলের জন্য Q = mL, তারপর সবগুলো যোগ। কখনোই একটা সূত্র দিয়ে পুরোটা সমাধান করার চেষ্টা কোরো না।
তাপমাত্রা থেমে যায় কেন: সুপ্ততাপের ভেতরের গল্প
“সুপ্ত” মানে লুকানো। তাপ ঢুকছে, কিন্তু থার্মোমিটারে ধরা পড়ছে না, তাই লুকানো। আসলে তাপ গেছে বিভব শক্তিতে। কণাদের গতিশক্তি বাড়েনি, তাই তাপমাত্রাও বাড়েনি।
একটা সিঁড়ির ছবি ভাবো। কণারা আকর্ষণের একটা গর্তে বসে আছে। গর্ত থেকে ওঠার জন্য শক্তি লাগে, কিন্তু উঠে গেলে ওপরে কণার গতি আগের মতোই। গলনে কণারা গর্তের দেয়াল কিছুটা ঢিলে করে, বাষ্পীভবনে একেবারে বেরিয়ে যায়।
সিমুলেশনে দুটো পরিমাপ পাশাপাশি রেখে দেখো: “গড় গতিশক্তি” আর “শোষিত তাপ”। সমতল অংশে প্রথমটা স্থির (০ °C-এ ১.০০, ১০০ °C-এ ১.৩৭), দ্বিতীয়টা বাড়তে থাকে।
উল্টো পথেও একই কাণ্ড। বাষ্প ঘনীভূত হলে আর পানি জমাট বাঁধলে ঠিক ততটা তাপ বেরিয়ে আসে। এজন্যই বাষ্পে পোড়া ফুটন্ত পানিতে পোড়ার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর, সেটা সমস্যা ৬-এ হিসাব করে দেখব।
বাষ্পীভবন, স্ফুটন আর ঊর্ধ্বপাতন
পানি ১০০ °C না হলেও উবে যায়, ভেজা কাপড় শুকায়। এটাকে স্ফুটন বলা যাবে না, বলে বাষ্পীভবন। দুটোর পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
বাষ্পীভবন কেন ঠান্ডা করে
উপরিতল থেকে সেই কণাগুলোই বেরিয়ে যায় যাদের গতিশক্তি সবচেয়ে বেশি। ফলে যারা থেকে যায় তাদের গড় গতিশক্তি কমে, মানে তরল ঠান্ডা হয়। ঘামলে বাতাসে শরীর ঠান্ডা লাগে, মাটির কলসির পানি শীতল থাকে, দুটোই এই কারণে।
স্ফুটনাঙ্ক চাপের ওপর নির্ভরশীল
স্ফুটনাঙ্ক বলতে বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান হওয়ার তাপমাত্রা বোঝায়। বাইরের চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে (পাহাড়ে পানি ১০০ °C-এর নিচেই ফোটে, তাই ভাত সেদ্ধ হতে বেশি সময় নেয়), আর বাড়লে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে (প্রেশার কুকারে পানি ১০০ °C-এর ওপরে ফোটে, রান্না দ্রুত হয়)। ১০০ °C মানে স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের মান।
ঊর্ধ্বপাতন: তরল ছাড়াই গ্যাস
কিছু কঠিন পদার্থ তাপ পেলে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে যায়। একে ঊর্ধ্বপাতন বলে। কর্পূর, ন্যাপথালিন, আয়োডিন আর অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এর উদাহরণ। শুষ্ক বরফ (কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড) সাধারণ চাপে প্রায় −৭৮ °C-এ উর্ধ্বপাতিত হয়।
গ্যাস আবার ঠান্ডা হয়ে সরাসরি কঠিন হয়ে যেতে পারে, যেমন ফ্রিজার-দেয়ালে জমা তুষার। এই উল্টো প্রক্রিয়ার নাম ডিপোজিশন, বা সরাসরি কঠিনীভবন। এই পাতার সিমুলেশনে শুধু পানির তিন অবস্থা আছে, তবে ঊর্ধ্বপাতনেও কথা একই: কণারা এক ধাপেই বাঁধন থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়, তাই লাগা তাপ গলন আর বাষ্পীভবনের যোগফলের কাছাকাছি।
চতুর্থ অবস্থা প্লাজমা (এক নজরে)
খুব উঁচু তাপমাত্রায় গ্যাসের অণু ভেঙে আয়ন আর ইলেকট্রনের মিশ্রণ হয়, যার নাম প্লাজমা। সূর্য, তারা, বিদ্যুৎ চমক আর নিয়ন বাতিতে প্লাজমা আছে। স্কুলের পরীক্ষায় তিন অবস্থাই মূল, প্লাজমা নিছক সাধারণ জ্ঞান।
| দিক | বাষ্পীভবন | স্ফুটন |
|---|---|---|
| তাপমাত্রা | যেকোনো তাপমাত্রায় | নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (স্ফুটনাঙ্ক) |
| কোথায় ঘটে | শুধু উপরিতলে | তরলের ভেতরের সব জায়গায়, বুদবুদ উঠে |
| গতি | ধীর | দ্রুত |
| শীতলতা | তরলকে ঠান্ডা করে | বাইরে থেকে তাপ লাগে |
| নির্ভর করে | ক্ষেত্রফল, তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা ও প্রবাহের ওপর | বাইরের চাপের ওপর |
সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো
পড়া এক জিনিস, নিজে করে দেখা আরেক জিনিস। নিচের চারটি পরীক্ষা পরপর করো। প্রতিটির আগে “আবার শুরু” চেপে নাও।
পরীক্ষা ১: দুটি সমতল অংশ মাপো
বার্নারের শক্তি ১০০ J/g/s রেখে সিমুলেশন চালাও এবং একটা স্টপওয়াচ হাতে রাখো। গলনের সমতল অংশ পার হতে তোমার ৩.৩৪ সেকেন্ডের কাছাকাছি লাগবে, স্ফুটনের অংশে ২২.৬ সেকেন্ড। অনুপাত ৬.৮, ঠিক সুপ্ততাপের অনুপাতের সমান।
পুরো যাত্রা প্রায় ৩০.৯ সেকেন্ডের, ফলে স্ফুটনের সমতল অংশই সময়ের বেশির ভাগ নিয়ে যায়। বাড়িতে একটা কেটলিতে পানি ফোটাতে দেখলে এটাই হয়: ফুটতে শুরু করার পর পুরো পানি শেষ হতে অনেক সময় লাগে।
পরীক্ষা ২: কণার গতি দেখো, তাপ নয়
“থামাও” চেপে “কোন অবস্থায় যাবে” থেকে “গলন” বেছে নাও। এবার “শোষিত তাপ” স্লাইডারটা অল্প অল্প ডানে টানো। বাক্সে একটা একটা করে কণা থিমের রঙ থেকে সবুজ হবে। পরিমাপের “কণা: কঠিন · তরল · গ্যাস” সারি থেকে সংখ্যাগুলো পড়ো।
এই পুরো সময় তাপমাত্রা আর গড় গতিশক্তি অপরিবর্তিত থাকে। শুধু শোষিত তাপ বাড়ছে, আর সঙ্গে কঠিন কণার সংখ্যা কমছে।
পরীক্ষা ৩: ঠান্ডা করে উল্টো পথে হাঁটো
“ঠান্ডা করো” টিক দাও। “কোন অবস্থায় যাবে” থেকে “গ্যাসীয় (বাষ্প)” বেছে নিয়ে সিমুলেশন চালাও। তাপমাত্রা নামতে নামতে ১০০ °C-এ আটকে যাবে, আর বাক্সে কমলা কণাগুলো একে একে সবুজ হয়ে তলায় জমবে: ঘনীভবন। এরপর ০ °C-এ আবার আটকাবে, সবুজ কণা আবার থিমের রঙে ফিরে সারিতে বসবে: হিমায়ন।
এবার ভাবো, কোনো তাপ কি ঢুকছে না বেরোচ্ছে? বেরোচ্ছে। ঘনীভবনে প্রতি গ্রামে ২,২৬০ J, হিমায়নে ৩৩৪ J ছাড়ে।
পরীক্ষা ৪: বার্নারের শক্তি বাড়ালে কী বদলায়
বার্নারের শক্তি ৪০০ J/g/s করে আবার চালাও। সব সমতল অংশ ছোট সময়ে পার হবে, কিন্তু লেখচিত্রের আকৃতি একই থাকে, কারণ x অক্ষে সময় নেই, আছে শোষিত তাপ। বার্নারের শক্তি শুধু ঠিক করে কত তাড়াতাড়ি সেই পথে হাঁটছ।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ল্যাবে প্রায়ই সময়–তাপমাত্রা লেখচিত্র আঁকা হয়। হিটারের শক্তি স্থির হলে সেটা এই তাপ–তাপমাত্রা লেখচিত্রেরই আরেকটা সংস্করণ, শুধু x অক্ষ সময়ে ভাগ করা।
গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান
প্রতিটি সমাধানে আগে দেওয়া রাশি, তারপর সূত্র, তারপর মান বসানো। মনে রাখো: ঢালু অংশে Q = mcΔT, সমতল অংশে Q = mL। সূত্রগুলোতে পানির c = ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹, বরফের ২.১, বাষ্পের ২.০; L = ৩৩৪ J/g (গলন), ২,২৬০ J/g (বাষ্পীভবন)।
সমস্যা ১: সিমুলেশনের পুরো যাত্রা
১ গ্রাম বরফ −-২০ °C থেকে ১২০ °C-এর বাষ্প হতে মোট কত তাপ লাগে?
ধাপ ১: ২.১ × -২০ = ৪২ J। ধাপ ২: ৩৩৪ J। ধাপ ৩: ৪.১৮ × ১০০ = ৪১৮ J। ধাপ ৪: ২,২৬০ J। ধাপ ৫: ২.০ × ২০ = ৪০ J। যোগফল ৩,০৯৪ J। এর ৭৩% শুধু স্ফুটনে, ১১% গলনে।
সমস্যা ২: চায়ের পানি গরম করা
২৫০ g পানি ২৫ °C থেকে ১০০ °C-এ তুলতে কত তাপ লাগে? (c = ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹)
Q = mcΔT = ২৫০ × ৪.১৮ × ৭৫ = ৭৮,৩৭৫ J ≈ ৭৮.৪ kJ। পানি ফুটন্ত হলে আর তাপমাত্রা বাড়বে না, বাকি তাপ বাষ্প বানাবে।
সমস্যা ৩: ০ °C-এর বরফ গলানো
৫০ g বরফ ঠিক ০ °C-এ আছে। সম্পূর্ণ গলাতে কত তাপ লাগবে?
তাপমাত্রা বদলাচ্ছে না, শুধু অবস্থা বদলাচ্ছে, তাই Q = mL = ৫০ × ৩৩৪ = ১৬,৭০০ J ≈ ১৬.৭ kJ। ফলে পাওয়া পানির তাপমাত্রা তখনো ০ °C।
সমস্যা ৪: বরফ থেকে ২০ °C-এর পানি
১০ g বরফ −১০ °C তাপমাত্রায় আছে। একে ২০ °C-এর পানি বানাতে কত তাপ লাগে?
তিন ধাপে। (ক) বরফ −১০ থেকে ০ °C: ১০ × ২.১ × ১০ = ২১০ J। (খ) গলন: ১০ × ৩৩৪ = ৩,৩৪০ J। (গ) পানি ০ থেকে ২০ °C: ১০ × ৪.১৮ × ২০ = ৮৩৬ J। মোট ২১০ + ৩,৩৪০ + ৮৩৬ = ৪,৩৮৬ J। লক্ষ করো, সবচেয়ে বড় অংশ গলনের।
সমস্যা ৫: ফুটন্ত পানি বাষ্প করা
১০০ g পানি ১০০ °C-এ ফুটছে। সবটা বাষ্প করতে কত তাপ লাগবে? আর তুলনা করো, ঐ পানিকে ০ থেকে ১০০ °C তুলতে কত লাগে।
বাষ্প করতে Q = mL = ১০০ × ২,২৬০ = ২,২৬,০০০ J = ২২৬ kJ। ০ থেকে ১০০ °C তুলতে ১০০ × ৪.১৮ × ১০০ = ৪১,৮০০ J ≈ ৪১.৮ kJ। বাষ্প করতে প্রায় ৫.৪ গুণ বেশি তাপ লাগে।
সমস্যা ৬: বাষ্পে পোড়া আর ফুটন্ত পানিতে পোড়া
১ g বাষ্প (১০০ °C) আর ১ g ফুটন্ত পানি (১০০ °C) আলাদাভাবে ত্বকে লেগে ৩৭ °C-এ নেমে এলে ত্বক কতটা তাপ পায়?
ফুটন্ত পানি: ১ × ৪.১৮ × ৬৩ = ২৬৩.৩ J। বাষ্প: আগে ঘনীভবনে ২,২৬০ J, তারপর ঠান্ডা হতে ২৬৩.৩ J, মোট ২,৫২৩.৩ J। বাষ্প প্রায় ৯.৬ গুণ বেশি তাপ দেয়, তাই বাষ্পের পোড়া এত মারাত্মক।
সমস্যা ৭: পানিতে বরফ ফেলা
২০০ g পানি ৩০ °C-এ আছে। তাতে ২০ g বরফ (০ °C) ফেলা হলো। বাইরে তাপ হারায় না ধরে শেষ তাপমাত্রা কত?
পানি ০ °C-এ নামলে ছাড়ে ২০০ × ৪.১৮ × ৩০ = ২৫,০৮০ J। বরফ গলতে লাগে ২০ × ৩৩৪ = ৬,৬৮০ J, তাই বরফ পুরো গলে যাবে। বাকি ১৮,৪০০ J মোট ২২০ g পানিকে গরম রাখে: ΔT = ১৮,৪০০ ÷ (২২০ × ৪.১৮) = ২০.০ °C। শেষ তাপমাত্রা প্রায় ২০.০ °C।
সমস্যা ৮: ১০০০ ওয়াটের হিটার
১ ওয়াট মানে প্রতি সেকেন্ডে ১ জুল। একটি ১,০০০ W হিটার ০ °C-এর বরফে এক মিনিট (৬০ s) চালালে কত গ্রাম বরফ গলবে? (তাপ-ক্ষয় ধরো না)
মোট তাপ = ১,০০০ × ৬০ = ৬০,০০০ J। গলা বরফ = Q ÷ L = ৬০,০০০ ÷ ৩৩৪ ≈ ১৮০ g।
সমস্যা ৯: বাষ্প ঘনীভূত হলে
২ g বাষ্প ১০০ °C-এ ঘনীভূত হয়ে একই তাপমাত্রার পানি হলে কত তাপ বের হয়?
Q = mL = ২ × ২,২৬০ = ৪,৫২০ J। এজন্য চুলার ওপর ঢাকনায় জমা বাষ্পের কণা গরম হয়ে ঢাকনাকে বেশ গরম করে ফেলে।
যে ভুলগুলো সবাই করে
এই ভুলগুলো এড়ালে পদার্থের অবস্থার প্রশ্নে নম্বর কাটার ভয় থাকে না।
- “তাপ দিলে তাপমাত্রা বাড়েই” ভাবা। গলন আর স্ফুটনের সময় তাপ দিলেও তাপমাত্রা বাড়ে না, কারণ তাপ যাচ্ছে সুপ্ততাপে।
- তাপ আর তাপমাত্রাকে এক করে ফেলা। তাপ হলো শক্তি (জুলে মাপা), তাপমাত্রা হলো গড় গতিশক্তির মাপ (°C বা K)।
- গলনের জায়গায় Q = mcΔT বসানো। সমতল অংশে ΔT শূন্য, তাই Q = mL।
- বাষ্পীভবন আর স্ফুটনকে এক ভাবা। বাষ্পীভবন যেকোনো তাপমাত্রায় উপরিতলে ঘটে, স্ফুটন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সারা তরলে।
- “গরম করলে অণু ফুলে বড় হয়” লেখা। অণুর আকার বদলায় না, বদলায় তাদের গতি আর দূরত্ব।
- সুপ্ততাপ আর আপেক্ষিক তাপের একক গুলিয়ে ফেলা। আপেক্ষিক তাপ J g⁻¹ K⁻¹ (সাথে K আছে), সুপ্ততাপ J/g (K নেই)।
- সব ধাপের তাপ যোগ করতে ভুলে যাওয়া। বরফ থেকে বাষ্পে গেলে পাঁচটাই ধাপ গুনতে হয়।
- কঠিনে কণা নড়ে না বলা। কণা নিজের জায়গায় থেকে কাঁপে, জায়গা ছাড়ে না।
বাস্তব জীবনে পদার্থের অবস্থা
পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন রান্নাঘর থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত সবখানে কাজ করছে।
- পানীয়তে বরফ: ০ °C-এর ঠান্ডা পানির চেয়ে ০ °C-এর বরফ বেশি ঠান্ডা করে, কারণ গলতে প্রতি গ্রাম ৩৩৪ J তাপ কেড়ে নেয়।
- ঘাম আর মাটির কলসি: উপরিতল থেকে বাষ্পীভবনে সবচেয়ে চঞ্চল কণা বেরিয়ে যায়, ফলে বাকিটা ঠান্ডা হয়।
- প্রেশার কুকার: ভেতরের চাপ বেশি, তাই পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ °C-এর ওপরে ওঠে, আর রান্না দ্রুত হয়।
- বাষ্প ইঞ্জিন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র: পানি ফুটিয়ে বাষ্প বানানো হয়, বাষ্প টারবাইন ঘোরায়, তারপর ঘনীভূত হয়ে আবার পানি হয়।
- রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার: তরল রেফ্রিজারেন্ট ভেতরে বাষ্প হয়ে তাপ শুষে নেয়, বাইরে ঘনীভূত হয়ে তাপ ছাড়ে।
- ন্যাপথালিন বল বা কর্পূর: কাপড়ের আলমারিতে রাখলে কিছুদিনে ছোট হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, ঊর্ধ্বপাতনের কারণে।
- শুষ্ক বরফ: আইসক্রিম আর খাবার পরিবহনে ব্যবহার হয়, গলে ভেজা হয় না, কারণ সরাসরি গ্যাস হয়ে যায়।
- শীতের কুয়াশা আর শিশির: বাতাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা পৃষ্ঠে ঘনীভূত হয়ে ছোট ফোঁটা বানায়।
পরীক্ষার কর্নার: SSC, HSC
নবম–দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে পদার্থের অবস্থা, গলন, স্ফুটন, বাষ্পীভবন আর ঊর্ধ্বপাতন আসে। পরীক্ষায় সাধারণত তিন অবস্থার পার্থক্য, গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের সংজ্ঞা, বাষ্পীভবন ও স্ফুটনের পার্থক্য আর ঊর্ধ্বপাতনের উদাহরণ চাওয়া হয়। HSC পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্রে তাপ–সংক্রান্ত অধ্যায়ে আপেক্ষিক তাপ, সুপ্ততাপ আর Q = mcΔT, Q = mL-এর অঙ্ক আসে। তোমার বোর্ডের সর্বশেষ সিলেবাসে অধ্যায়ের নাম মিলিয়ে নিও।
বহুনির্বাচনি প্রশ্নে প্রায়ই আসে: গলনের সময় তাপমাত্রা কত থাকে, কোন প্রক্রিয়ায় তাপ ছাড়ে, ঊর্ধ্বপাতিত হয় এমন পদার্থের নাম, আর একধাপের অঙ্ক। সৃজনশীলে জ্ঞানমূলক অংশে সংজ্ঞা, অনুধাবনে “গলনের সময় তাপ দিলেও তাপমাত্রা বাড়ে না কেন”, আর প্রয়োগে বহু ধাপের অঙ্ক।
একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: একটি পাত্রে ১০ g বরফ −১০ °C তাপমাত্রায় রাখা আছে। সেটিকে ধীরে ধীরে গরম করা হচ্ছে। (বরফের c = ২.১ J g⁻¹ K⁻¹, পানির c = ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹, গলনের সুপ্ততাপ ৩৩৪ J/g)
ক) সুপ্ততাপ কাকে বলে? খ) বরফ গলার সময় তাপ দিলেও তাপমাত্রা স্থির থাকে কেন, ব্যাখ্যা করো। গ) বরফকে ০ °C-এর পানি বানাতে কত তাপ লাগবে? ঘ) বরফকে ২০ °C-এর পানি বানাতে মোট কত তাপ লাগবে এবং এর কোন অংশ সবচেয়ে বেশি, বিশ্লেষণ করো।
গ-এর উত্তর: ২১০ + ৩,৩৪০ = ৩,৫৫০ J। ঘ-এর উত্তর: মোট ৪,৩৮৬ J, গলনের অংশ ৩,৩৪০ J সবচেয়ে বেশি (সমস্যা ৪ দেখো)।
রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ
পরীক্ষার আগের রাতে এই তালিকা আর লেখচিত্রের ছবিটা একবার দেখে নিলেই যথেষ্ট।
- কঠিনে কণা জায়গায় কাঁপে, তরলে গড়ায়, গ্যাসে স্বাধীনভাবে ছোটে; আকর্ষণ বল ক্রমে কমে।
- তাপমাত্রা = কণার গড় গতিশক্তির মাপ; পরম তাপমাত্রা T (K) = t (°C) + ২৭৩।
- গলনাঙ্ক: বরফ ০ °C (২৭৩ K)। স্ফুটনাঙ্ক: পানি ১০০ °C (৩৭৩ K), ১ atm চাপে।
- অবস্থা বদলের সময় তাপ দিলেও তাপমাত্রা স্থির; এই তাপের নাম সুপ্ততাপ।
- ঢালু অংশে Q = mcΔT, সমতল অংশে Q = mL। পানির c = ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹; L (গলন) = ৩৩৪ J/g; L (বাষ্পীভবন) = ২,২৬০ J/g।
- বাষ্পীভবন যেকোনো তাপমাত্রায় উপরিতলে ঘটে ও ঠান্ডা করে; স্ফুটন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সারা তরলে ঘটে।
- ঊর্ধ্বপাতন: কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাস (কর্পূর, ন্যাপথালিন, আয়োডিন, শুষ্ক বরফ)।
- ১ g বরফ → বাষ্পে মোট ৩,০৯৪ J (−-২০ °C থেকে ১২০ °C); ৭৩% যায় স্ফুটনে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পদার্থের তিনটি অবস্থা কী কী?
পদার্থের তিনটি প্রচলিত অবস্থা কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। কঠিনে কণা নিজের জায়গায় কাঁপে এবং আকার আর আয়তন দুটোই নির্দিষ্ট থাকে। তরলে কণা গড়িয়ে চলে, আয়তন নির্দিষ্ট কিন্তু আকার পাত্রের মতো। গ্যাসে কণা স্বাধীনভাবে ছোটে, তাই আকার ও আয়তন কোনোটাই নির্দিষ্ট থাকে না।
সুপ্ততাপ কাকে বলে?
তাপমাত্রা না বদলিয়ে একক ভরের কোনো পদার্থের অবস্থা বদলাতে যে তাপ লাগে, তাকে সুপ্ততাপ বলে। সূত্র Q = mL। বরফ গলনের সুপ্ততাপ ৩৩৪ J/g, আর পানির বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ ২,২৬০ J/g।
বরফ গলার সময় তাপ দিলেও তাপমাত্রা বাড়ে না কেন?
গলনের সময় তাপ কণাদের গতি বাড়ায় না। তা খরচ হয় কঠিনের নিয়মিত সাজানো ভেঙে কণাদের বাঁধন ঢিলে করতে, মানে বিভব শক্তি বাড়াতে। কণাদের গড় গতিশক্তি অপরিবর্তিত থাকে বলে তাপমাত্রাও স্থির থাকে।
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
নির্দিষ্ট চাপে যে তাপমাত্রায় কঠিন গলে তরল হয়, তা গলনাঙ্ক। যে তাপমাত্রায় তরলের বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান হয়ে সারা তরলে স্ফুটন শুরু হয়, তা স্ফুটনাঙ্ক। ১ atm চাপে পানির গলনাঙ্ক ০ °C আর স্ফুটনাঙ্ক ১০০ °C।
বাষ্পীভবন ও স্ফুটনের পার্থক্য কী?
বাষ্পীভবন যেকোনো তাপমাত্রায় শুধু তরলের উপরিতলে ধীরে ঘটে এবং তরলকে ঠান্ডা করে। স্ফুটন কেবল স্ফুটনাঙ্কে ঘটে, তরলের ভেতরের সব জায়গা থেকে বুদবুদ হয়ে বাষ্প ওঠে, আর বাইরে থেকে তাপ দিতে হয়।
ঊর্ধ্বপাতন কী? উদাহরণ দাও।
কিছু কঠিন পদার্থ তাপ পেলে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, একে ঊর্ধ্বপাতন বলে। উদাহরণ: কর্পূর, ন্যাপথালিন, আয়োডিন, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও শুষ্ক বরফ (কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড)।
পানির আপেক্ষিক তাপ কত?
পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় ৪.১৮ J g⁻¹ K⁻¹, মানে ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে প্রায় ৪.১৮ J লাগে। বরফের মান প্রায় ২.১, আর বাষ্পের প্রায় ২.০ J g⁻¹ K⁻¹।
প্রেশার কুকারে রান্না দ্রুত হয় কেন?
প্রেশার কুকারের ভেতরে বাষ্পচাপ বেড়ে স্ফুটনাঙ্ক ১০০ °C-এর ওপরে ওঠে। পানি তখন আরও বেশি তাপমাত্রায় ফোটে, তাই খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।
বাষ্পের পোড়া ফুটন্ত পানির পোড়ার চেয়ে মারাত্মক কেন?
১০০ °C-এর বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় প্রতি গ্রামে ২,২৬০ J সুপ্ততাপ ছাড়ে, যা একই তাপমাত্রার পানির দেওয়া তাপের তুলনায় অনেক বেশি। তাই ত্বকে বাষ্পের ক্ষতি বেশি হয়।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
SSC
এসএসসি সাধারণ বিজ্ঞান
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
SSC
এসএসসি রসায়ন: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
HSC
এইচএসসি রসায়ন: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বই
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
ঢাবি বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Paragraph: Environment Pollution (ইংরেজিতে)
বাংলা
রচনা: পরিবেশ দূষণ
English
Composition: Wonders of Modern Science (ইংরেজিতে)
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
বিদেশে পড়াশোনা
দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা
স্কলারশিপ
জাপানের MEXT স্কলারশিপ
IELTS
IELTS Writing Task 1: process diagrams (ইংরেজিতে)
IELTS
English tests: IELTS, TOEFL, Duolingo (ইংরেজিতে)
টুল
Final grade calculator (ইংরেজিতে)
বিদেশে পড়াশোনা
How to write a statement of purpose (ইংরেজিতে)
আরও রসায়ন অ্যানিমেশন
SSC · HSC
পরমাণুর গঠন
পরমাণুর গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন, পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা, আইসোটোপ ও ইলেকট্রন বিন্যাস। নিজে পরমাণু বানিয়ে দেখো, গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
pH কি বা কাকে বলে, pH স্কেল কীভাবে কাজ করে, এসিড ও ক্ষারকের পার্থক্য, নির্দেশক ও প্রশমন বিক্রিয়া: বুরেট থেকে ফোঁটা ফেলে নিজে টাইট্রেশন করে দেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
ইলেকট্রন বিন্যাস
ইলেকট্রন বিন্যাস কাকে বলে, লেখার সহজ নিয়ম, আউফবাউ, পাউলির বর্জন ও হুন্ডের নীতি, Cr-Cu ব্যতিক্রম, আয়ন: ইলেকট্রন একটি একটি করে বসতে দেখো, ১-৩৬ মৌলের তালিকাসহ।
SSC · HSC
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, চাপীয় সূত্র, অ্যাভোগেড্রোর সূত্র ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT: পিস্টন টেনে নিজে দেখো, লেখচিত্র, R-এর মান ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
আয়নিক বন্ধন কাকে বলে, কীভাবে ধাতুর ইলেকট্রন অধাতুতে গিয়ে আয়ন তৈরি করে, আর সংকেত কীভাবে চার্জ মিলিয়ে বের হয়: NaCl, MgO, CaCl₂ বেছে নিয়ে নিজে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে, ক্যাথোড-অ্যানোডে কী উৎপন্ন হয়, আর ফ্যারাডের সূত্রে ভর কীভাবে হিসাব হয়: গলিত NaCl, CuSO₄ বা অম্লীভূত পানি বেছে নিয়ে নিজে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
সমযোজী বন্ধন
সমযোজী বন্ধন কাকে বলে, একক-দ্বি-ত্রিবন্ধন কীভাবে গঠিত হয়, অক্টেট নিয়ম কী: H₂O, NH₃, CH₄, CO₂ অণুর ডট-ক্রস চিত্র সিমুলেশনে নিজে বানিয়ে দেখো, পোলারিটিসহ।
SSC · HSC
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কাকে বলে, পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ও আয়নিকরণ শক্তি পর্যায় ও গ্রুপে কীভাবে বদলায়: প্রথম ৩৬টি মৌলের হিটম্যাপে নিজে পরীক্ষা করে দেখো, ব্যতিক্রমসহ।
SSC · HSC
বিক্রিয়ার হার ও সংঘর্ষ তত্ত্ব
বিক্রিয়ার হার কীসের ওপর নির্ভর করে? সংঘর্ষ তত্ত্বের সিমুলেশনে তাপমাত্রা, ঘনমাত্রা আর প্রভাবক বদলে সক্রিয়ণ শক্তির লেখচিত্র ও উৎপাদের রেখা নিজের চোখে দেখো।
HSC
পরমাণুর অরবিটাল: s, p, d-এর আকৃতি, কোয়ান্টাম সংখ্যা ও নোড
1s, 2s, 2p ও 3d অরবিটাল ঘুরিয়ে 3D-তে দেখো। কক্ষপথ ও অরবিটালের পার্থক্য, চার কোয়ান্টাম সংখ্যা, রেডিয়াল ও কৌণিক নোড গোনা, উপস্তরের ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা, সমাধানসহ।
HSC
আণবিক আকৃতি ও ভিএসইপিআর তত্ত্ব: বন্ধন জোড়, মুক্তজোড় ও বন্ধন কোণ
ত্রিমাত্রিক অণু বানিয়ে ঘোরাও। বন্ধন জোড় ও মুক্তজোড় ইলেকট্রন কীভাবে CH4, NH3, H2O, PCl5, SF6-এর আকৃতি, বন্ধন কোণ ও সংকরণ ঠিক করে, সমাধানসহ হাতেকলমে শেখো।
SSC · HSC
মোল ধারণা: মোলার ভর, অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা ও মোলার আয়তন
মোল কাকে বলে, অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা কত, মোলার ভর ও STP-তে মোলার আয়তন (২২.৪ লিটার) কী? পাল্লায় ওজন মেপে মোল ও অণুর সংখ্যা নিজে বের করো; শতকরা সংযুতি ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
ব্যাপন ও নিঃসরণ: গ্রাহামের সূত্র
নলের ভেতর NH₃ ও HCl মিলে সাদা বলয় তৈরি করা দেখো, তারপর সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের নিঃসরণের দৌড়। গ্রাহামের ব্যাপন সূত্রের প্রমাণ ও অঙ্ক সমাধানসহ।
SSC · HSC
রাসায়নিক সমীকরণ সমতাকরণ: পদ্ধতি, উদাহরণ ও অনুশীলন
রাসায়নিক সমীকরণ কীভাবে মেলাতে হয়? সহগ বদলে দুই পাশের পরমাণু গুনে দেখো। পানি, মিথেন, মরিচা, রান্নার গ্যাসসহ পাঁচটি সমীকরণ ধাপে ধাপে সমাধান, SSC ও HSC প্রস্তুতির জন্য।
HSC
রাসায়নিক সাম্যাবস্থা: সাম্যধ্রুবক Kc ও লা শাতেলিয়ের নীতি
রাসায়নিক সাম্যাবস্থা কী, সাম্যধ্রুবক Kc কীভাবে বের করে, আর ঘনমাত্রা, তাপ ও চাপ বদলালে বিক্রিয়া কোন দিকে সরে? হেবার প্রক্রিয়ার অ্যানিমেশনে হার-রেখা দেখে লা শাতেলিয়ের নীতি বোঝো।
SSC · HSC
টাইট্রেশন: অম্ল-ক্ষারের ঘনমাত্রা বের করার পদ্ধতি
টাইট্রেশন কী, ব্যুরেট ও নির্দেশক কীভাবে কাজ করে, শেষ বিন্দু আর সমতা বিন্দু কী এক জিনিস না, আর V₁M₁ = V₂M₂ দিয়ে ঘনমাত্রা কীভাবে বের করবে? pH লেখচিত্রসহ সিমুলেশনে হাতে-কলমে শেখো।
HSC
গ্যালভানিক কোষ: ড্যানিয়েল কোষ, EMF ও নার্নস্ট সমীকরণ
গ্যালভানিক কোষ কীভাবে বিদ্যুৎ বানায়? ড্যানিয়েল কোষে ইলেকট্রন আর লবণ সেতুর আয়ন কোন দিকে যায়, দণ্ডের ভর কীভাবে বদলায়, আদর্শ ও নার্নস্ট EMF কত? সিমুলেশনে ঘনমাত্রা বদলে নিজে দেখো।
SSC · HSC
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: জারণ সংখ্যা, ইলেকট্রন স্থানান্তর ও অর্ধ-সমীকরণ
জারণ ও বিজারণ কী, জারণ সংখ্যা কীভাবে বের করে, কোনটা জারক আর কোনটা বিজারক? পাঁচটি বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের চলাচল দেখো, অর্ধ-সমীকরণ ও সমাধান করা অঙ্কসহ।
SSC · HSC
হাইড্রোকার্বন: অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন ও কাঠামোগত সমাণু ত্রিমাত্রায়
অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইনকে ঘূর্ণায়মান বল-স্টিক মডেলে দেখো। কার্বন সংখ্যা বদলাও, সাধারণ সংকেত ও IUPAC নাম পড়ো, আর বিউটেন, পেন্টেন, হেক্সেনের সব কাঠামোগত সমাণু দেখো।
HSC
কার্যকরী মূলক: অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যাসিড, এস্টার ও অ্যামিন
কার্যকরী মূলক কী, অ্যালকোহল-অ্যালডিহাইড-কিটোন-অ্যাসিড-এস্টার-অ্যামিন কীভাবে চিনবে, IUPAC নাম কীভাবে লিখবে? আটটি পরিবারের গঠন দেখো, পরীক্ষা ও সমাধান করা অঙ্কসহ।
HSC
পলিমারকরণ: যোজন ও ঘনীভবন পলিমার, পলিথিন ও নাইলন
পলিমার কী, যোজন ও ঘনীভবন পলিমারকরণে পার্থক্য কী? ইথিন থেকে পলিথিন আর নাইলন-৬,৬ তৈরি দেখো, শিকলের আণবিক ভর ও নির্গত পানির হিসাবসহ।
SSC · HSC
মিশ্রণ আলাদা করার পদ্ধতি: ছাঁকন, পাতন, ক্রোমাটোগ্রাফি, স্ফটিকীকরণ
ছাঁকন, সরল ও আংশিক পাতন, কাগজ ক্রোমাটোগ্রাফি আর স্ফটিকীকরণ চোখের সামনে চলতে দেখো। Rf-এর হিসাব, পাতনের তাপমাত্রা-রেখা আর স্ফটিকের ফলন হাতে-কলমে।
HSC
কেলাস জালক: SC, BCC ও FCC একক কোষ, প্যাকিং দক্ষতা ও ঘনত্ব
সরল, দেহকেন্দ্রিক ও ফলককেন্দ্রিক ঘন একক কোষ ঘুরিয়ে দেখো। প্রতি কোষে পরমাণু, সন্নিবেশ সংখ্যা, প্যাকিং দক্ষতা (৫২.৪%, ৬৮%, ৭৪%) আর ঘনত্বের হিসাব।
HSC
তেজস্ক্রিয়তা: আলফা, বিটা, গামা ক্ষয় ও অর্ধায়ু
আলফা, বিটা, গামা ক্ষয়ে A ও Z কীভাবে বদলায় দেখো, পারমাণবিক সমীকরণ মেলাও, ১০০ পরমাণুর এলোমেলো ক্ষয় অর্ধায়ু রেখা ধরে চলতে দেখো। কার্বন-১৪ কালনির্ণয়সহ বিনা মূল্যের সিমুলেশন।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর প্রতিসরণ
পদার্থবিজ্ঞান
ওহমের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাসের গতি
পদার্থবিজ্ঞান
সরল দোলক
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎ ক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান
তরঙ্গের ব্যতিচার
পদার্থবিজ্ঞান
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের গতির সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
পদার্থবিজ্ঞান
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
পদার্থবিজ্ঞান
নততল
পদার্থবিজ্ঞান
বৃত্তাকার গতি
পদার্থবিজ্ঞান
অনুপ্রস্থ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
পদার্থবিজ্ঞান
লিভার ও ভ্রামক
পদার্থবিজ্ঞান
ভরকেন্দ্র
পদার্থবিজ্ঞান
স্প্রিং-ভর ও সরল ছন্দিত স্পন্দন
পদার্থবিজ্ঞান
ভেক্টর যোগ: ত্রিভুজ ও সামান্তরিক সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
আপেক্ষিক বেগ: ট্রেন ও নদী পারাপার
পদার্থবিজ্ঞান
কেপলারের সূত্র ও উপবৃত্তাকার কক্ষপথ
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র, g ও কৃত্রিম উপগ্রহ
পদার্থবিজ্ঞান
তার ও নলে স্থির তরঙ্গ
পদার্থবিজ্ঞান
অনুনাদ নল ও শব্দের দ্রুতি
পদার্থবিজ্ঞান
স্বরকম্প: কাছাকাছি দুই সুরের স্পন্দন
পদার্থবিজ্ঞান
ডপলার প্রভাব: চলমান উৎস, চলমান শ্রোতা ও সনিক বুম
পদার্থবিজ্ঞান
প্রিজম, আলোর বিচ্ছুরণ ও রামধনু
পদার্থবিজ্ঞান
কির্শফের সূত্র: সংযোগ সূত্র ও বদ্ধ পথ সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
হুইটস্টোন ব্রিজ ও মিটার ব্রিজ
পদার্থবিজ্ঞান
একক চিড়ে অপবর্তন
পদার্থবিজ্ঞান
চোখের ত্রুটি ও তার প্রতিকার
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর সমবর্তন: ম্যালাসের সূত্র ও ব্রুস্টারের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ক্যাপাসিটরের আহিতকরণ ও নিরাহিতকরণ: আরসি সময় ধ্রুবক
পদার্থবিজ্ঞান
চৌম্বক ক্ষেত্ররেখা: দণ্ডচুম্বক, তড়িৎবাহী সরল তার ও সলিনয়েড
পদার্থবিজ্ঞান
এসি জেনারেটর
পদার্থবিজ্ঞান
ট্রান্সফর্মার
পদার্থবিজ্ঞান
তাপের সঞ্চালন: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ
পদার্থবিজ্ঞান
আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া: আইনস্টাইনের সমীকরণ ও নিবৃত্তি বিভব
পদার্থবিজ্ঞান
মোটর ক্রিয়া: তড়িৎবাহী তারের ওপর বল ও ডিসি মোটর
পদার্থবিজ্ঞান
গ্যাসের অণু ও গতিতত্ত্ব: চাপ, তাপমাত্রা ও দ্রুতি
পদার্থবিজ্ঞান
অর্ধপরিবাহী ডায়োড: p–n সন্ধি, I–V বক্ররেখা ও রেক্টিফায়ার
পদার্থবিজ্ঞান
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়: অর্ধায়ু, ক্ষয় সূত্র ও বিকিরণের ভেদন ক্ষমতা
পদার্থবিজ্ঞান
বোর পরমাণু মডেল: কক্ষপথ, শক্তিস্তর ও হাইড্রোজেনের বর্ণালি
জীববিজ্ঞান
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
জীববিজ্ঞান
সালোকসংশ্লেষণ
জীববিজ্ঞান
মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ
জীববিজ্ঞান
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
জীববিজ্ঞান
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
জীববিজ্ঞান
কোষীয় শ্বসন
জীববিজ্ঞান
এনজাইম ক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল
জীববিজ্ঞান
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
পরিপাকতন্ত্র
জীববিজ্ঞান
শ্বাসক্রিয়ার কৌশল: প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস
জীববিজ্ঞান
প্রোটিন সংশ্লেষণ
জীববিজ্ঞান
রক্ত সংবহন: দ্বি-সংবহন ও কার্ডিয়াক আউটপুট
জীববিজ্ঞান
কোষের গঠন ও অঙ্গাণু: উদ্ভিদ কোষ বনাম প্রাণী কোষ
জীববিজ্ঞান
প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত চাপ
জীববিজ্ঞান
মানুষের চোখ: গঠন, প্রতিবিম্ব ও উপযোজন
জীববিজ্ঞান
পেশি সংকোচন ও স্লাইডিং ফিলামেন্ট মডেল
জীববিজ্ঞান
উদ্ভিদে পরিবহন: জাইলেম, ফ্লোয়েম ও বাষ্পমোচন
জীববিজ্ঞান
খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল: শক্তির প্রবাহ ও ১০ % নিয়ম
জীববিজ্ঞান
জনসংখ্যা বৃদ্ধি: সূচকীয় ও লজিস্টিক রেখা
জীববিজ্ঞান
প্রাকৃতিক নির্বাচন: পেপার্ড মথ ও কালিঝুলি মাখা গাছ
জীববিজ্ঞান
রোগপ্রতিরোধ: প্রাথমিক ও গৌণ অ্যান্টিবডি সাড়া
জীববিজ্ঞান
পরাগায়ন ও নিষেক
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত
গড়, মধ্যক ও প্রচুরক
গণিত
সেট ও ভেনচিত্র
গণিত
সরল সহসমীকরণ ও সরলরেখার লেখচিত্র
গণিত
sin, cos, tan-এর লেখচিত্র
গণিত
পূর্ণবর্গ পদ্ধতি ও দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধান
গণিত
বৃত্তের ক্ষেত্রফল: সূত্র, প্রমাণ ও সমাধান
গণিত
ঘনবস্তুর আয়তন ও তলের ক্ষেত্রফল: ঘনক, আয়তঘন, বেলন, কোণক, গোলক
গণিত
সদৃশ ত্রিভুজ: স্কেল ফ্যাক্টর, AA, SSS, SAS শর্ত ও ছায়া থেকে উচ্চতা
গণিত
স্থানাঙ্ক জ্যামিতি: দূরত্ব, মধ্যবিন্দু, ঢাল, বিভক্তিকরণ সূত্র ও সঞ্চারপথ
গণিত
শাঙ্কব ছেদ: বৃত্ত, উপবৃত্ত, পরাবৃত্ত ও অধিবৃত্ত
গণিত
ফাংশনের রূপান্তর: সরানো, টানা ও উল্টানো
গণিত
অন্তরীকরণ: স্পর্শকের ঢাল ও ছেদক থেকে স্পর্শক
গণিত
রিম্যান যোগফল ও সমাকলন: বক্ররেখার নিচের ক্ষেত্রফল
গণিত
সীমা ও ε–δ সংজ্ঞা: ছবিতে বোঝা
গণিত
ত্রিমাত্রিক ভেক্টর: যোগ, ডট গুণ ও ক্রস গুণ
গণিত
ম্যাট্রিক্স রূপান্তর: ঘূর্ণন, প্রতিফলন, শিয়ার ও নির্ণায়ক
গণিত
জটিল সংখ্যা: আরগান্ড সমতলে যোগ, গুণ, ঘাত ও মূল
গণিত






















