মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

ব্যাপন ও অভিস্রবণ চোখের সামনে দেখো

কোনো পদার্থের অণু বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়াকে ব্যাপন বলে। আর অর্ধভেদ্য পর্দার ভেতর দিয়ে দ্রাবক (পানি) কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণে যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে। নিচের সিমুলেশনে ঘনমাত্রা বদলে দুটোই নিজে দেখো।

দ্রব কণা (যেমন চিনি)পানির অণুঅর্ধভেদ্য পর্দাবাম পাশের দ্রবণের ঘনমাত্রাডান পাশের দ্রবণের ঘনমাত্রা
গতি

নিয়ন্ত্রণ

কী দেখবে

০.১০ mol/L
০.৫০ mol/L
২৫ °C

পরিমাপ

বাম পাশের দ্রবণের ঘনমাত্রা
০.১০mol/L
ডান পাশের দ্রবণের ঘনমাত্রা
০.৫০mol/L
পানির নিট প্রবাহ
বাম → ডান
পানির তলের পার্থক্য
০.০cm
পর্দা পার হওয়া পানির অণু (প্রতি সেকেন্ডে)
→ ০ · ← ০
অবস্থা
পানি ঘন দ্রবণের দিকে যাচ্ছে

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. ওপরে “কী দেখবে” থেকে তিনটির একটি বেছে নাও: ব্যাপন, অভিস্রবণ অথবা দ্রবণে রাখা কোষ।
  2. ব্যাপনে দুই পাশের ঘনমাত্রা আলাদা রাখো, আর দেখো বড় রঙিন কণাগুলো কীভাবে এলোমেলো ধাক্কা খেতে খেতে পুরো পাত্রে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ডানের গ্রাফে দুই রেখা একসাথে মিলে যাওয়াই ব্যাপনের শেষ।
  3. অভিস্রবণে মাঝখানের কমলা ড্যাশ দেওয়া রেখাটি অর্ধভেদ্য পর্দা: ছোট নীল পানির অণু পার হয়, বড় দ্রব কণা পারে না। খেয়াল করো, বেশি ঘন দিকের পানির তল উঠে যায়, আর Δh একটা নির্দিষ্ট মানে গিয়ে থামে।
  4. “দ্রবণে কোষ” বেছে নিয়ে হাইপারটোনিক দ্রবণ দাও: উদ্ভিদ কোষের প্রোটোপ্লাজম কোষপ্রাচীর ছেড়ে কুঁকড়ে যাবে (প্লাজমোলাইসিস)। তারপর হাইপোটোনিক দিয়ে দেখো কোষটি আবার ফুলে আগের অবস্থায় ফেরে (ডিপ্লাজমোলাইসিস)।
  5. কোষের ধরন বদলে লোহিত রক্তকণিকা নাও: হাইপোটোনিকে এটি ফুলে ফেটে যায়, হাইপারটোনিকে কুঁচকে কাঁটার মতো হয়ে যায়।
  6. তাপমাত্রা ৫ °C থেকে ৬০ °C পর্যন্ত বদলাও, আর দেখো সবকিছু কত দ্রুত বা ধীরে ঘটে। থামিয়ে পরিমাপ প্যানেলের সংখ্যাগুলো খাতায় লিখে রাখো।

সুগন্ধি, চায়ের চিনি আর লবণ মাখানো আম: একই রহস্য

ঘরের এক কোণে কেউ আগরবাতি জ্বালালে কিছুক্ষণ পর পুরো ঘরে গন্ধ পাওয়া যায়, অথচ কেউ পাখা দিয়ে গন্ধটা ঠেলে দেয়নি। এক কাপ পানিতে এক ফোঁটা লাল রং ফেলো, না নাড়লেও কিছুক্ষণ পর পুরো পানি হালকা লাল হয়ে যায়। গন্ধ আর রঙ নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ল কীভাবে? উত্তরটার নাম ব্যাপন।

এবার আরেকটা দৃশ্য। কাঁচা আম কেটে লবণ মাখিয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর বাটিতে পানি জমে যায়, আম কুঁচকে নরম হয়ে যায়। আবার শুকনো কিসমিস এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সকালে ফুলে মোটা হয়ে যায়। পানি কখনো ফল থেকে বের হচ্ছে, কখনো ঢুকছে। কোন দিকে যাবে, সেটা ঠিক করে দেয় অভিস্রবণ।

উদ্ভিদের শিকড় মাটি থেকে পানি টানে, পাতার ভেতরে অক্সিজেন আর কার্বন ডাই-অক্সাইড আসা-যাওয়া করে, আমাদের ফুসফুসে রক্ত অক্সিজেন নেয়, কিডনি রক্ত ছেঁকে পরিষ্কার করে। জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজের পেছনে এই দুটি নীরব প্রক্রিয়া কাজ করছে। তাই অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে এসএসসি, এইচএসসি এমনকি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাতেও এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসবেই।

একদম শুরু থেকে: অণুরা কখনো স্থির থাকে না

সবকিছুর শুরু একটা ছোট্ট সত্যি কথা দিয়ে: প্রতিটি পদার্থ অসংখ্য ক্ষুদ্র কণা, অর্থাৎ অণু-পরমাণু দিয়ে তৈরি, আর এই কণাগুলো সবসময় নড়ছে। তরল আর গ্যাসের অণুরা এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়, একে অন্যকে ধাক্কা দেয়, ধাক্কা খেয়ে দিক বদলায়। এই অবিরাম এলোমেলো চলাকে বলে অণুর গতিশক্তি বা তাপীয় গতি।

১৮২৭ সালে বিজ্ঞানী রবার্ট ব্রাউন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পানিতে ভাসমান পরাগরেণুকে অকারণে কাঁপতে দেখেছিলেন। আসলে চোখে না দেখা পানির অণুগুলো চারদিক থেকে রেণুটিকে ধাক্কা দিচ্ছিল। এজন্য এই এলোমেলো নড়াচড়ার নাম ব্রাউনীয় গতি। আমাদের সিমুলেশনের প্রতিটি বিন্দু ঠিক এভাবেই চলে: কোনো নির্দিষ্ট দিকে নয়, প্রতি মুহূর্তে এলোমেলো দিকে।

মজার বিষয় হলো, কোনো একটা অণু জানে না কোথায় ভিড় বেশি। কিন্তু যেখানে অণু বেশি, সেখান থেকে বাইরে যাওয়ার মতো অণুও বেশি; আর যেখানে কম, সেখান থেকে ফিরে আসার মতো অণুও কম। তাই হিসাব মেলালে দেখা যায়, বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে নিট বা মোট প্রবাহ তৈরি হয়। কোনো শক্তি ঠেলে দেয় না, শুধু সংখ্যার খেলা।

দুই পাশে ঘনত্ব সমান হয়ে গেলে কি অণুরা থেমে যায়? না! তখনো তারা ছোটাছুটি করে, কিন্তু যতগুলো বাম থেকে ডানে যায় প্রায় ততগুলোই ডান থেকে বামে আসে। মোট প্রবাহ শূন্য হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলে গতিশীল সাম্যাবস্থা। সিমুলেশনের পরিমাপ প্যানেলে “→” আর “←” সংখ্যা দুটি এক সময় প্রায় সমান হয়ে যায়, খেয়াল করো।

ব্যাপন কাকে বলে?

সংজ্ঞা: একই তাপমাত্রা ও চাপে কোনো পদার্থের অণু বা আয়ন যখন বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং সবখানে ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন (Diffusion) বলে।

ব্যাপন কঠিন, তরল ও গ্যাস তিন অবস্থাতেই হতে পারে, তবে গ্যাসে সবচেয়ে দ্রুত আর কঠিনে সবচেয়ে ধীরে। কারণ গ্যাসের অণুগুলোর মাঝে ফাঁকা জায়গা অনেক বেশি আর তারা খুব দ্রুত ছোটে। ব্যাপনের জন্য কোনো পর্দার দরকার হয় না; পর্দা থাকলেও সেটা যদি সব কণাকে যেতে দেয় (যেমন পুরোপুরি ভেদ্য পর্দা), তবু সেটা ব্যাপনই।

সিমুলেশনে “ব্যাপন” মোডে মাঝখানে কোনো পর্দা নেই। বাম পাশে কম আর ডান পাশে বেশি দ্রব কণা দিয়ে শুরু করলে দেখবে, কণাগুলো ধীরে ধীরে বাম দিকে চলে আসছে। গ্রাফের দুটি রেখা, অর্থাৎ বাম আর ডানের ঘনমাত্রা, কাছাকাছি আসতে আসতে একসময় মিলে যায়। তখন অবস্থা লেখা ওঠে “সমান হয়ে গেছে”।

J = −D · ΔC / Δxফিকের সূত্র: ব্যাপনের হার ঘনত্বের পার্থক্যের সমানুপাতিক, দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক

D ∝ T / ηতাপমাত্রা বাড়লে আর মাধ্যম পাতলা হলে ব্যাপন দ্রুত হয়

  • এক ফোঁটা কালি পানিতে ছড়িয়ে পড়া
  • ঘরে সুগন্ধি বা রান্নার গন্ধ ছড়ানো
  • চায়ে চিনি বা টি-ব্যাগের রং না নেড়েও ছড়িয়ে যাওয়া
  • পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে CO₂ ঢোকা আর O₂ বের হওয়া
  • ফুসফুসের বায়ুথলি (অ্যালভিওলাস) থেকে রক্তে অক্সিজেন যাওয়া
  • কোষের ভেতর গ্লুকোজ ও আয়নের চলাচল

ব্যাপন চাপ ও ব্যাপন হার

বেশি ঘনত্বের জায়গায় অণুগুলো গাদাগাদি থাকে বলে তারা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার একটা প্রবণতা তৈরি করে। এই প্রবণতা থেকে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যাপন চাপ বলে। যেখানে ঘনত্ব বেশি, সেখানে ব্যাপন চাপ বেশি; আর পদার্থ সবসময় বেশি ব্যাপন চাপের জায়গা থেকে কম ব্যাপন চাপের জায়গায় যায়।

বিশুদ্ধ পানির ব্যাপন চাপ সবচেয়ে বেশি। পানিতে চিনি বা লবণ মেশালে প্রতিটি দ্রব কণা কিছু পানির অণুকে নিজের চারপাশে আটকে রাখে, ফলে মুক্তভাবে ছোটার মতো পানির অণু কমে যায়। তাই দ্রবণের পানির ব্যাপন চাপ বিশুদ্ধ পানির চেয়ে কম। বিশুদ্ধ পানি আর দ্রবণের পানির ব্যাপন চাপের এই পার্থক্যকে বলে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (DPD), যাকে এখন পানি বিভব (ψ) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

একক সময়ে কতটুকু পদার্থ ছড়াল, সেটা হলো ব্যাপন হার। ঘনত্বের পার্থক্য যত বেশি, হারও তত বেশি; এজন্য সিমুলেশনের শুরুতে কণাগুলো দ্রুত পার হয় আর শেষের দিকে প্রায় সমান সমান আসা-যাওয়া করে। গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্রাহামের সূত্র বলে: ব্যাপন হার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক, অর্থাৎ হালকা গ্যাস দ্রুত ছড়ায়।

r₁ / r₂ = √(M₂ / M₁)গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র: হালকা গ্যাসের হার বেশি

অভিস্রবণ কাকে বলে?

সংজ্ঞা: একই দ্রাবক ও দ্রবে তৈরি ভিন্ন ঘনত্বের দুটি দ্রবণ যদি একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা থাকে, তবে দ্রাবক (সাধারণত পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যেতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ (Osmosis) বলে।

অর্ধভেদ্য পর্দা হলো এমন একটি পর্দা যা ছোট পানির অণুকে যেতে দেয়, কিন্তু বড় দ্রব কণা (যেমন চিনির অণু) আটকে দেয়। কোষঝিল্লি, ডিমের খোসার ভেতরের পাতলা পর্দা, মাছের পটকা, সেলোফেন কাগজ বা পার্চমেন্ট কাগজ এর উদাহরণ। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর কিন্তু পুরোপুরি ভেদ্য, অর্থাৎ পানি আর দ্রব দুটোই যেতে পারে, তাই এটা অর্ধভেদ্য পর্দা নয়।

সিমুলেশনের “অভিস্রবণ” মোডে তাকাও। নীল ছোট বিন্দুগুলো পানি, রঙিন বড় বিন্দুগুলো দ্রব। বড় বিন্দু মাঝের পর্দায় ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, কিন্তু ছোট বিন্দু পার হয়। ডান পাশে দ্রব বেশি, তাই সেখানে মুক্ত পানির অণু কম। ফলে বাম থেকে ডানে বেশি পানি যায়, ডান থেকে বামে কম আসে। এর ফলাফল: ডান পাশের পানির তল উঠে যায়।

তল কি অনন্তকাল উঠতেই থাকবে? না। ডান পাশে পানি জমে যত উঁচু হয়, নিচে তত বেশি পানির ওজন বা জলস্থিতিক চাপ তৈরি হয়। এই চাপ পানিকে উল্টো দিকে ঠেলে দেয়। একসময় দুই দিকের ঠেলা সমান হয়ে যায় আর তল থেমে যায়। সিমুলেশনে Δh একটা নির্দিষ্ট মানে গিয়ে থামে, আর অবস্থা লেখা ওঠে “সাম্যাবস্থা”। এই থামিয়ে দেওয়ার জন্য যতটুকু চাপ লাগে, সেটাই অভিস্রবণ চাপ।

  • অর্ধভেদ্য পর্দা থাকতেই হবে
  • পর্দার দুই পাশের দ্রবণের ঘনত্ব ভিন্ন হতে হবে
  • শুধু দ্রাবক চলে, দ্রব চলে না
  • দ্রাবক কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যায়

অভিস্রবণ চাপ: কতটা জোরে টানে দ্রবণ

কোনো দ্রবণকে অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি থেকে আলাদা রাখলে পানি দ্রবণে ঢুকতে চায়। এই ঢোকা ঠেকাতে দ্রবণের ওপর ঠিক যতটুকু চাপ দিতে হয়, তাকে ওই দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ (π) বলে। দ্রবণ যত ঘন, অভিস্রবণ চাপ তত বেশি।

লঘু দ্রবণের জন্য ভ্যান্ট হফ একটি চমৎকার সহজ সূত্র দেন, যা দেখতে গ্যাসের সূত্রের মতো। এখানে C হলো মোলার ঘনমাত্রা, R গ্যাস ধ্রুবক, T কেলভিন তাপমাত্রা, আর i হলো একটি দ্রব কণা ভেঙে কয়টি কণা হয় (চিনির জন্য ১, NaCl-এর জন্য প্রায় ২)। সূত্র থেকেই বোঝা যায়, অভিস্রবণ নির্ভর করে কণার সংখ্যার ওপর, কণার ধরনের ওপর নয়।

উদ্ভিদবিজ্ঞানে পানির চলাচল বোঝাতে পানি বিভব (water potential, ψ) ব্যবহার করা হয়। বিশুদ্ধ পানির ψ শূন্য ধরা হয়, আর দ্রব মেশালে ψ ঋণাত্মক হয়ে যায়। পানি সবসময় বেশি ψ (কম ঋণাত্মক) থেকে কম ψ (বেশি ঋণাত্মক) এর দিকে যায়। কোষের ψ হলো দ্রব বিভব আর চাপ বিভবের যোগফল।

π = i C R Tভ্যান্ট হফের সূত্র; R = ০.০৮২১ L·atm/(mol·K)

ψ = ψs + ψpকোষের পানি বিভব = দ্রব বিভব + চাপ বিভব

ψs = −i C R TR = ৮.৩১৪ L·kPa/(mol·K) নিলে ψ আসে kPa এককে

ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে পার্থক্য

পরীক্ষায় “ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে ৫টি পার্থক্য লেখো” প্রায় প্রতি বছর আসে। নিচের ছকটি একবার ভালো করে পড়ে নাও, প্রতিটি পয়েন্টের পেছনের যুক্তি সিমুলেশনে মিলিয়ে দেখো।

বিষয়ব্যাপনঅভিস্রবণ
পর্দালাগে নাঅর্ধভেদ্য পর্দা লাগবেই
কী চলেদ্রব, দ্রাবক, গ্যাস যেকোনো কণাশুধু দ্রাবক (পানি)
মাধ্যমকঠিন, তরল ও গ্যাসশুধু তরল দ্রবণে
দিকবেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে (ওই পদার্থের)কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণে
কখন থামেসবখানে ঘনত্ব সমান হলেঅভিস্রবণ চাপ আর জলস্থিতিক চাপ সমান হলে
চাপ তৈরিব্যাপন চাপঅভিস্রবণ চাপ (তল উঁচু হয়)
উদাহরণসুগন্ধি ছড়ানো, পাতায় গ্যাস বিনিময়মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ, কিসমিস ফোলা

হাইপোটোনিক, আইসোটোনিক ও হাইপারটোনিক দ্রবণ

কোনো কোষকে দ্রবণে রাখলে পানি কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করে কোষের ভেতরের আর বাইরের দ্রবণের ঘনত্বের তুলনার ওপর। এই তুলনাকে বলে টনিসিটি। সিমুলেশনে কোষের ভেতরের ঘনমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ০.৩ mol/L, আর বাইরের দ্রবণ তিনটি প্রিসেটে দেওয়া আছে: হাইপোটোনিক ০.০৫, আইসোটোনিক ০.৩০ আর হাইপারটোনিক ০.৬০ mol/L।

হাইপোটোনিক দ্রবণ মানে বাইরের দ্রবণ কোষরসের চেয়ে পাতলা। পানি কোষে ঢোকে। আইসোটোনিক মানে দুই পাশে সমান ঘনত্ব, পানি যত ঢোকে তত বের হয়, নিট প্রবাহ শূন্য। হাইপারটোনিক মানে বাইরের দ্রবণ বেশি ঘন, পানি কোষ থেকে বের হয়ে যায়।

উদ্ভিদ কোষ আর প্রাণী কোষ এখানে আলাদা আচরণ করে, কারণ উদ্ভিদ কোষের চারপাশে শক্ত কোষপ্রাচীর থাকে যা ফেটে যেতে দেয় না। প্রাণী কোষে (যেমন লোহিত রক্তকণিকা) কোষপ্রাচীর নেই, তাই বেশি পানি ঢুকলে সেটা ফেটে যায়।

বাইরের দ্রবণপানির নিট প্রবাহউদ্ভিদ কোষলোহিত রক্তকণিকা
হাইপোটোনিককোষের ভেতরেরসস্ফীত (টার্জিড), শক্ত ও টানটানফুলে ফেটে যায় (হিমোলাইসিস)
আইসোটোনিকশূন্যশিথিল (ফ্ল্যাসিড)স্বাভাবিক চাকতির মতো
হাইপারটোনিককোষের বাইরেপ্লাজমোলাইসিসকুঁচকে যায় (ক্রিনেশন)

প্লাজমোলাইসিস ও ডিপ্লাজমোলাইসিস

প্লাজমোলাইসিস কী? কোনো জীবিত উদ্ভিদ কোষকে হাইপারটোনিক দ্রবণে রাখলে বহিঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে কোষরস থেকে পানি বের হয়ে যায়। ফলে কোষগহ্বর ছোট হয়, প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে কোষপ্রাচীর থেকে আলাদা হয়ে কোষের মাঝখানে জড়ো হয়। এই ঘটনাকে প্লাজমোলাইসিস বলে।

কোষপ্রাচীর ভেদ্য বলে প্রাচীর আর সংকুচিত প্রোটোপ্লাজমের মাঝের ফাঁকা জায়গা বাইরের দ্রবণ দিয়ে ভরে যায়। সিমুলেশনে “দ্রবণে কোষ” মোডে হাইপারটোনিক দিলেই দেখবে, সবুজ প্রোটোপ্লাজম প্রাচীরের কোণ থেকে সরে গোলাকার হয়ে যাচ্ছে আর মাঝের নীল কোষগহ্বর ছোট হচ্ছে। অবস্থা লেখা ওঠে প্রথমে “প্লাজমোলাইসিস শুরু”, পরে “প্লাজমোলাইসিস”।

ডিপ্লাজমোলাইসিস কী? প্লাজমোলাইসিস হওয়া কোষকে যদি বেশি দেরি হওয়ার আগে পানিতে বা হাইপোটোনিক দ্রবণে রাখা হয়, তবে অন্তঃঅভিস্রবণে পানি আবার কোষে ঢোকে, প্রোটোপ্লাজম ফুলে আগের মতো প্রাচীরে লেগে যায়। একে ডিপ্লাজমোলাইসিস বলে। সিমুলেশন ইচ্ছা করেই বাইরের দ্রবণ বদলালে নতুন করে শুরু হয় না, যাতে তুমি এই ফিরে আসাটা নিজের চোখে দেখতে পারো।

  • প্লাজমোলাইসিস শুধু জীবিত কোষে হয়, কারণ মৃত কোষের ঝিল্লি আর অর্ধভেদ্য থাকে না
  • দীর্ঘ সময় প্লাজমোলাইসিস থাকলে কোষ মারা যায়, তখন আর ডিপ্লাজমোলাইসিস হয় না
  • জমিতে বেশি সার দিলে মাটির পানি হাইপারটোনিক হয়ে গাছ নেতিয়ে পড়ে, এটাও প্লাজমোলাইসিস
  • লবণ বা চিনি দিয়ে আচার, জেলি সংরক্ষণ করা যায়, কারণ জীবাণুকোষ প্লাজমোলাইসিসে মারা যায়

ইমবাইবিশন বা অন্তঃশোষণ

শুকনো কাঠ, বীজ বা কিসমিস পানিতে রাখলে ফুলে ওঠে। কাঠের দরজা বর্ষাকালে ভিজে ফুলে আটকে যায়। এখানে কোনো দ্রবণ বা পর্দার খেলা নেই: কলয়েড জাতীয় শুষ্ক পদার্থ (সেলুলোজ, প্রোটিন, স্টার্চ) নিজেই পানি টেনে নেয়। এই প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বা অন্তঃশোষণ বলে।

বীজ অঙ্কুরোদগমের প্রথম ধাপই ইমবাইবিশন। বীজ পানি শুষে ফুলে ওঠে, বীজত্বক ফেটে যায়, ভেতরের এনজাইম সক্রিয় হয়। ইমবাইবিশনের চাপ অনেক বেশি হতে পারে; পুরোনো দিনে পাথরের ফাটলে শুকনো কাঠের গোঁজ ঢুকিয়ে তাতে পানি ঢেলে পাথর ফাটানো হতো। ইমবাইবিশনে তাপ উৎপন্ন হয় এবং শোষণকারীর আয়তন বাড়ে।

ব্যাপন ও অভিস্রবণের হার কীসের ওপর নির্ভর করে

সিমুলেশনে তুমি তিনটি জিনিস বদলাতে পারো: দুই পাশের ঘনমাত্রা আর তাপমাত্রা। বাস্তবে আরও কয়েকটি বিষয় হারকে প্রভাবিত করে। নিচের তালিকার প্রতিটির পেছনের কারণ একটাই: অণুরা কত দ্রুত ছোটে আর কতটা পথ পাড়ি দিতে হয়।

  • ঘনত্বের পার্থক্য: পার্থক্য যত বেশি, হার তত বেশি (ফিকের সূত্র)
  • তাপমাত্রা: তাপ বাড়লে অণুর গতিশক্তি বাড়ে আর পানি পাতলা হয়, তাই হার বাড়ে
  • অণুর আকার বা ভর: ছোট ও হালকা অণু দ্রুত ছড়ায় (গ্রাহামের সূত্র)
  • মাধ্যমের ঘনত্ব: গ্যাসে সবচেয়ে দ্রুত, তরলে মাঝারি, কঠিনে সবচেয়ে ধীরে
  • দূরত্ব ও ক্ষেত্রফল: পাতলা পর্দা আর বড় পৃষ্ঠতল হার বাড়ায়, এজন্য ফুসফুসে লক্ষ লক্ষ বায়ুথলি আর অন্ত্রে ভিলাই
  • চাপ: গ্যাসের ক্ষেত্রে চাপের পার্থক্যও ব্যাপন চালায়

হাতে-কলমে পরীক্ষা: আলু, কিসমিস আর ডিম

বইয়ের পরীক্ষাগুলো বাসাতেই করা যায়। প্রতিটির ফল আগে নিজে অনুমান করো, তারপর সিমুলেশনের সাথে মিলিয়ে নাও।

আলুর অসমোমিটার

একটা বড় আলুর খোসা ছাড়িয়ে মাঝখানে গর্ত করে কাপের মতো বানাও। গর্তে ঘন চিনির দ্রবণ ঢেলে একটা আলপিন দিয়ে তল চিহ্নিত করো। আলুটাকে একটা পাত্রের বিশুদ্ধ পানিতে বসিয়ে দাও। কয়েক ঘণ্টা পর দেখবে গর্তের দ্রবণের তল উঠে গেছে।

কারণ আলুর জীবিত কোষগুলো মিলে একটি অর্ধভেদ্য পর্দার কাজ করছে। বাইরের পানি (বেশি পানি বিভব) কোষের ভেতর দিয়ে চিনির দ্রবণে (কম পানি বিভব) ঢুকছে। আলু সেদ্ধ করে একই পরীক্ষা করলে তল ওঠে না, কারণ মৃত কোষের ঝিল্লি আর অর্ধভেদ্য নয়। এটাই সিমুলেশনের অভিস্রবণ মোডের বাস্তব রূপ।

কিসমিস ফোলা

কয়েকটি শুকনো কিসমিস ওজন করে এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখো। সকালে টিস্যু দিয়ে মুছে আবার ওজন করো। ওজন বাড়বে, কারণ কিসমিসের ভেতরের চিনি দ্রবণ অনেক ঘন আর বাইরের পানি হাইপোটোনিক। ঘন চিনির দ্রবণে ফুলে ওঠা কিসমিস রাখলে আবার কুঁচকে যায়।

খোসাহীন ডিম

একটা কাঁচা ডিম ভিনেগারে এক-দুই দিন রাখলে খোসার ক্যালসিয়াম কার্বনেট গলে যায়, থাকে শুধু পাতলা অর্ধভেদ্য পর্দা। এই ডিম পানিতে রাখলে ফুলে বড় হয়, আর ঘন চিনির সিরাপে রাখলে চুপসে যায়। লোহিত রক্তকণিকার হাইপোটোনিক আর হাইপারটোনিক আচরণের বড় আকারের নমুনা এটি।

সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো

শুধু দেখে নয়, প্রশ্ন নিয়ে খেলে শেখো। নিচের প্রতিটি পরীক্ষার আগে ফলাফল অনুমান করে খাতায় লেখো।

  • অভিস্রবণ মোডে দুই পাশের ঘনমাত্রা সমান করো (যেমন দুটোই ০.৩০)। তল কি উঠবে? পরিমাপে প্রবাহ “সাম্যাবস্থা” দেখাবে, কারণ দুই দ্রবণ আইসোটোনিক।
  • বামে ০, ডানে ১.০০ দাও: Δh সবচেয়ে বেশি হবে। তারপর ডানে ০.৫০ দাও: Δh প্রায় অর্ধেকে নামে কি? অভিস্রবণ চাপ ঘনত্বের সমানুপাতিক।
  • ব্যাপন মোডে তাপমাত্রা ৫ °C আর ৬০ °C রেখে দুবার চালাও এবং গ্রাফে রেখা দুটি মিলতে কত সেকেন্ড লাগে তা তুলনা করো।
  • কোষ মোডে উদ্ভিদ কোষ নিয়ে হাইপারটোনিক দাও, প্লাজমোলাইসিস হলে হাইপোটোনিক দাও: কোষ ফিরে আসে (ডিপ্লাজমোলাইসিস)।
  • লোহিত রক্তকণিকা নিয়ে হাইপোটোনিক দাও: আয়তন বাড়তে বাড়তে কোষ ফেটে যায়। এরপর আইসোটোনিক দিলেও আর ফেরে না। স্যালাইন কেন ০.৯% হয়, এখান থেকেই বোঝা যায়।

গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান

এই অধ্যায়ের গাণিতিক প্রশ্ন সাধারণত রসায়ন আর জীববিজ্ঞান মিলিয়ে আসে। প্রতিটি উত্তর নিজে হিসাব করে তারপর মিলিয়ে দেখো।

সমস্যা ১: সিমুলেশনের ট্যাংকের অভিস্রবণ চাপ

সিমুলেশনের শুরুতে বামে ০.১ mol/L আর ডানে ০.৫ mol/L চিনির দ্রবণ, তাপমাত্রা ২৫ °C। প্রতিটির অভিস্রবণ চাপ ও পার্থক্য বের করো।

T = ২৫ + ২৭৩.১৫ = ২৯৮.১৫ K। চিনি ভাঙে না, তাই i = ১। বাম: π = ০.১ × ০.০৮২১ × ২৯৮.১৫ = ২.৪৫ atm। ডান: π = ০.৫ × ০.০৮২১ × ২৯৮.১৫ = ১২.২৪ atm। পার্থক্য = ৯.৭৯ atm।

এই চাপ-পার্থক্য কত উঁচু পানির স্তম্ভ ধরে রাখতে পারে? h = Δπ/(ρg) = ৯.৭৯ × ১০১৩২৫ ÷ (১০০০ × ৯.৮) ≈ ১০১.২ মিটার! সত্যিকারের অভিস্রবণ এত শক্তিশালী বলেই সিমুলেশনের তলকে স্কেল করে দেখাতে হয়েছে, আর এজন্যই উঁচু গাছের আগায় পানি পৌঁছাতে অভিস্রবণ বড় ভূমিকা রাখে।

Δπ = (C₂ − C₁) R T

সমস্যা ২: আলুর টুকরার ভর পরিবর্তন

৫.০০ g ভরের দুটি আলুর টুকরার একটি ১ mol/L চিনির দ্রবণে আর অন্যটি পানিতে রাখা হলো। এক ঘণ্টা পর প্রথমটির ভর ৪.৩০ g, দ্বিতীয়টির ৫.৫৫ g। শতকরা পরিবর্তন কত আর কেন?

চিনির দ্রবণে: (৪.৩০ − ৫.০০) ÷ ৫.০০ × ১০০ = -১৪.০%। অর্থাৎ ০.৭০ g পানি বেরিয়ে গেছে, কারণ দ্রবণটি হাইপারটোনিক।

পানিতে: (৫.৫৫ − ৫.০০) ÷ ৫.০০ × ১০০ = +১১.০%। ০.৫৫ g পানি ঢুকেছে, কারণ পানি হাইপোটোনিক। যে ঘনত্বে ভরের পরিবর্তন শূন্য, সেটাই আলুর কোষরসের সাথে আইসোটোনিক।

শতকরা পরিবর্তন = (শেষ ভর − শুরুর ভর) ÷ শুরুর ভর × ১০০

সমস্যা ৩: গ্রাহামের সূত্র ও সাদা ধোঁয়ার বলয়

১০০ cm লম্বা একটি নলের এক মাথায় অ্যামোনিয়া (NH₃, M = ১৭) আর অন্য মাথায় হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl, M = ৩৬.৫) ভেজানো তুলা রাখা হলো। দুটি গ্যাস যেখানে মিলবে সেখানে সাদা NH₄Cl এর বলয় তৈরি হবে। বলয়টি কোথায় হবে?

হারের অনুপাত: r(NH₃) ÷ r(HCl) = √(৩৬.৫ ÷ ১৭) = ১.৪৬৫। একই সময়ে দূরত্ব হারের সমানুপাতিক, তাই অ্যামোনিয়ার দিক থেকে দূরত্ব = ১০০ × ১.৪৬৫ ÷ (১.৪৬৫ + ১) = ৫৯.৪ cm, আর HCl এর দিক থেকে ৪০.৬ cm। হালকা অ্যামোনিয়া বেশি পথ যায়।

সমস্যা ৪: দুটি দ্রবণ মেশালে নতুন ঘনমাত্রা

২০০ mL ০.৫ mol/L চিনির দ্রবণের সাথে ৩০০ mL ০.১ mol/L দ্রবণ মেশানো হলো। ব্যাপন শেষ হলে সবখানে ঘনমাত্রা কত হবে?

প্রথম দ্রবণে চিনি = ০.১০ mol, দ্বিতীয়তে ০.০৩ mol, মোট ০.১৩ mol। মোট আয়তন ০.৫ L। তাই চূড়ান্ত ঘনমাত্রা = ০.১৩ ÷ ০.৫ = ০.২৬ mol/L। সিমুলেশনের ব্যাপন মোডে গ্রাফের দুই রেখা ঠিক এভাবে গড় মানে গিয়ে মেলে।

C = (C₁V₁ + C₂V₂) ÷ (V₁ + V₂)

সমস্যা ৫: স্যালাইন কেন ০.৯%

০.৯% NaCl মানে প্রতি লিটারে ৯ g লবণ। NaCl এর মোলার ভর ৫৮.৪৪ g/mol। দেখাও যে এটি রক্তের সাথে প্রায় আইসোটোনিক।

মোলারিটি = ৯ ÷ ৫৮.৪৪ = ০.১৫৪ mol/L। পানিতে NaCl ভেঙে Na⁺ আর Cl⁻ হয়, তাই i ≈ ২, কণার ঘনমাত্রা ≈ ০.৩০৮ osmol/L, যা রক্তরসের প্রায় ০.৩ osmol/L এর সমান। দেহের তাপমাত্রায় (৩৭ °C = ৩১০.১৫ K) অভিস্রবণ চাপ ≈ ০.৩০৮ × ০.০৮২১ × ৩১০.১৫ = ৭.৮৪ atm। তাই শিরায় স্যালাইন দিলে রক্তকণিকা ফাটে না, কুঁচকেও যায় না।

সমস্যা ৬: পানি বিভব দিয়ে দিক নির্ণয়

একটি কোষের দ্রব বিভব -৮০০ kPa আর চাপ বিভব +৩০০ kPa। কোষটিকে ২৫ °C তাপমাত্রায় ০.৩ mol/L চিনির দ্রবণে রাখা হলো। পানি কোন দিকে যাবে?

কোষের ψ = -৮০০ + ৩০০ = -৫০০ kPa। দ্রবণের ψ = −C R T = −০.৩ × ৮.৩১৪ × ২৯৮.১৫ = -৭৪৪ kPa। পানি বেশি ψ থেকে কম ψ-এর দিকে যায়। -৫০০ > -৭৪৪, তাই পানি কোষ থেকে বের হয়ে দ্রবণে যাবে; পার্থক্য ২৪৪ kPa। কোষটি ধীরে ধীরে প্লাজমোলাইসিসের দিকে যাবে।

সমস্যা ৭: তাপমাত্রা ব্যাপনকে কত দ্রুত করে

সিমুলেশনে কণাগুলো D ∝ T/η সূত্র মেনে চলে, যেখানে η হলো পানির সান্দ্রতা। ২৫ °C এর তুলনায় ৫ °C-এ ব্যাপন হয় ০.৫৫ গুণ, আর ৬০ °C-এ ২.১৫ গুণ।

অর্থাৎ ৫ °C থেকে ৬০ °C-এ গেলে ব্যাপন প্রায় ৩.৯ গুণ দ্রুত হয়। শুধু তাপমাত্রার অনুপাত (কেলভিনে) এত বড় নয়; বেশিরভাগ বৃদ্ধি আসে গরম পানি পাতলা হয়ে যাওয়ায়। এজন্য গরম পানিতে চা-পাতার রং দ্রুত ছড়ায়।

সমস্যা ৮: কিসমিসের ভর বৃদ্ধি

২.০ g কিসমিস এক রাত পানিতে রাখার পর ভর হলো ৩.১ g। শতকরা বৃদ্ধি = (৩.১ − ২.০) ÷ ২.০ × ১০০ = ৫৫%। এই পানি ঢুকেছে অন্তঃঅভিস্রবণ ও ইমবাইবিশনে।

যে ভুলগুলো সবাই করে

খাতায় লেখার সময় নিচের ভুলগুলো থেকে সাবধান থাকো; পরীক্ষক এগুলোতেই নম্বর কাটেন।

  • “অভিস্রবণে দ্রব চলে” লেখা ভুল। অভিস্রবণে শুধু দ্রাবক চলে।
  • “পানি বেশি ঘন দ্রবণ থেকে কম ঘন দ্রবণে যায়” উল্টো। পানি যায় কম ঘন থেকে বেশি ঘন দ্রবণে।
  • কোষপ্রাচীরকে অর্ধভেদ্য বলা ভুল। কোষপ্রাচীর ভেদ্য; অর্ধভেদ্য হলো কোষঝিল্লি।
  • সাম্যাবস্থায় অণুর চলাচল থেমে যায় না, শুধু নিট প্রবাহ শূন্য হয়।
  • ইমবাইবিশনকে অভিস্রবণ বলা ভুল। ইমবাইবিশনে পর্দা বা দ্রবণ লাগে না।
  • আইসোটোনিক দ্রবণে উদ্ভিদ কোষ টার্জিড নয়, ফ্ল্যাসিড থাকে।

দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপন ও অভিস্রবণ

বইয়ের বাইরেও এই দুটি প্রক্রিয়া প্রতিদিন আমাদের চারপাশে কাজ করছে। কয়েকটি উদাহরণ মনে রাখলে সৃজনশীল প্রশ্নের প্রয়োগ অংশে সহজে লেখা যায়।

  • মাছ ও মাংসে লবণ মাখিয়ে শুঁটকি ও সংরক্ষণ: জীবাণু প্লাজমোলাইসিসে মারা যায়
  • আচার, জ্যাম ও জেলিতে বেশি চিনি বা লবণ: একই কারণে নষ্ট হয় না
  • ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইন (ওআরএস): অন্ত্র থেকে পানি ও লবণ শোষণে সাহায্য করে
  • মূলরোম দিয়ে মাটির পানি শোষণ আর কোষ থেকে কোষে পানি চলাচল
  • পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে প্রস্বেদন ও গ্যাস বিনিময়
  • কিডনি বিকল হলে ডায়ালাইসিস: অর্ধভেদ্য নলের ভেতর দিয়ে রক্ত থেকে বর্জ্য ব্যাপিত হয়
  • রিভার্স অসমোসিস (RO) ফিল্টার: উল্টো চাপ দিয়ে লবণাক্ত পানি থেকে বিশুদ্ধ পানি
  • শুকনো সবজি পানিতে ভিজিয়ে তাজা করা আর নেতিয়ে পড়া গাছে পানি দিলে সোজা হওয়া

পরীক্ষার কর্নার: এসএসসি ও এইচএসসি

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞানের “উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব” অংশে আর এইচএসসি উদ্ভিদবিজ্ঞানের পানি শোষণ অধ্যায়ে ব্যাপন, অভিস্রবণ, প্রস্বেদন ও ইমবাইবিশন একসাথে আসে। অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞানেও সংজ্ঞা আর পার্থক্য আসে।

সৃজনশীল প্রশ্নের জ্ঞান অংশে সাধারণত আসে “ব্যাপন কাকে বলে?”, “অর্ধভেদ্য পর্দা কী?”, “প্লাজমোলাইসিস কী?”। অনুধাবনে আসে “অভিস্রবণ এক প্রকার ব্যাপন ব্যাখ্যা কর” বা “কোষপ্রাচীর ভেদ্য কেন?”। প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতায় একটি উদ্দীপক দেওয়া থাকে, যেমন কেউ গাছে বেশি সার দিল বা আলু চিনির দ্রবণে রাখল; তোমাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়।

  • সংজ্ঞাগুলো বইয়ের ভাষায় মুখস্থ রাখো, কিন্তু উদাহরণ নিজের ভাষায় দাও
  • পার্থক্যের প্রশ্নে কমপক্ষে পাঁচটি পয়েন্ট ছক আকারে লেখো
  • চিত্র আঁকতে বললে প্লাজমোলাইসিসের কোষে প্রাচীর, সংকুচিত প্রোটোপ্লাজম, কোষগহ্বর ও ফাঁকা জায়গা চিহ্নিত করো
  • মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অভিস্রবণ চাপ, পানি বিভব আর টনিসিটি নিয়ে MCQ আসে; সূত্রগুলো একবার করে হাতে হিসাব করে নাও

এক নজরে পুনরালোচনা

পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই অংশটা পড়লেই পুরো অধ্যায় মনে পড়ে যাবে।

  • ব্যাপন: বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে কণার নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়া; পর্দা লাগে না
  • অভিস্রবণ: অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে দ্রাবক কম ঘন থেকে বেশি ঘন দ্রবণে যায়
  • অভিস্রবণ চাপ π = iCRT; পানি বিভব ψ = ψs + ψp
  • হাইপোটোনিক: পানি ঢোকে; আইসোটোনিক: নিট প্রবাহ নেই; হাইপারটোনিক: পানি বের হয়
  • প্লাজমোলাইসিস: হাইপারটোনিকে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর থেকে সরে যায়; ডিপ্লাজমোলাইসিস: ফিরে আসা
  • ইমবাইবিশন: কলয়েড পদার্থের পানি শোষণ, বীজ অঙ্কুরোদগমের প্রথম ধাপ
  • হার বাড়ে: বেশি ঘনত্ব-পার্থক্য, বেশি তাপ, ছোট অণু, পাতলা পর্দা, বড় পৃষ্ঠতল

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ব্যাপন কাকে বলে সহজ ভাষায়?

কোনো পদার্থের কণা বেশি ভিড়ের জায়গা থেকে কম ভিড়ের জায়গায় নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়াকে ব্যাপন বলে, যতক্ষণ না সবখানে সমান হয়। যেমন ঘরের কোণে সুগন্ধি দিলে পুরো ঘরে গন্ধ ছড়ায়।

অভিস্রবণ কাকে বলে সহজ ভাষায়?

একটি অর্ধভেদ্য পর্দার দুই পাশে দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ থাকলে পানি পাতলা দ্রবণ থেকে পর্দা পেরিয়ে ঘন দ্রবণে চলে যায়। এটাই অভিস্রবণ। দ্রব কণা পর্দা পেরোতে পারে না।

ব্যাপন ও অভিস্রবণ এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

ব্যাপনে কোনো পর্দা লাগে না এবং যেকোনো কণা চলতে পারে। অভিস্রবণে অর্ধভেদ্য পর্দা লাগে এবং শুধু দ্রাবক, অর্থাৎ পানি, কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণে যায়।

অভিস্রবণকে কেন এক প্রকার ব্যাপন বলা হয়?

কারণ অভিস্রবণেও পানির অণু তার বেশি ঘনত্বের জায়গা থেকে কম ঘনত্বের জায়গায় যায়, যা ব্যাপনের নিয়ম। পার্থক্য শুধু এখানে অর্ধভেদ্য পর্দা থাকে এবং শুধু দ্রাবক চলে।

প্লাজমোলাইসিস ও ডিপ্লাজমোলাইসিস কাকে বলে?

হাইপারটোনিক দ্রবণে রাখলে উদ্ভিদ কোষ থেকে পানি বের হয়ে প্রোটোপ্লাজম কোষপ্রাচীর থেকে সরে যায়, একে প্লাজমোলাইসিস বলে। সেই কোষকে পানিতে রাখলে আবার পানি ঢুকে আগের অবস্থায় ফেরে, একে ডিপ্লাজমোলাইসিস বলে।

ব্যাপন চাপ কাকে বলে?

কোনো পদার্থের অণুগুলো বেশি ঘনত্বের জায়গা থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা বা চাপ তৈরি করে, তাকে ব্যাপন চাপ বলে। ঘনত্ব যত বেশি, ব্যাপন চাপ তত বেশি; বিশুদ্ধ পানির ব্যাপন চাপ সবচেয়ে বেশি।

অর্ধভেদ্য পর্দার উদাহরণ কী কী?

কোষঝিল্লি, ডিমের খোসার ভেতরের পর্দা, মাছের পটকা, প্রাণীর মূত্রথলির পর্দা, সেলোফেন ও পার্চমেন্ট কাগজ। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর অর্ধভেদ্য নয়, এটি ভেদ্য।

লবণ দিলে কেন মাছ বা আচার সহজে পচে না?

বেশি লবণ বা চিনি বাইরের পরিবেশকে হাইপারটোনিক করে দেয়। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের কোষ থেকে অভিস্রবণে পানি বেরিয়ে যায়, তারা প্লাজমোলাইসিসে মারা যায় বা বাড়তে পারে না।

ইমবাইবিশন আর অভিস্রবণ কি একই?

না। ইমবাইবিশনে শুষ্ক কলয়েড পদার্থ, যেমন বীজ বা কাঠ, সরাসরি পানি শুষে ফুলে ওঠে; কোনো অর্ধভেদ্য পর্দা বা দুটি দ্রবণের দরকার হয় না। অভিস্রবণে পর্দা ও ঘনত্বের পার্থক্য লাগে।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

SSC

এসএসসি সাধারণ বিজ্ঞান

SSC

এসএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি

HSC

এইচএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি

পাঠ্যবই

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই

ভর্তি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

ভর্তি

মেডিকেল ভর্তি ২০২৬-২৭

ভর্তি

গুচ্ছ (GST) বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭

English

Composition: Climate Change (ইংরেজিতে)

বাংলা

রচনা: জলবায়ু পরিবর্তন

SSC

এসএসসি সাজেশন

HSC

এইচএসসি সাজেশন

ভর্তি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড

SSC

এসএসসি সিলেবাস

HSC

এইচএসসি সিলেবাস

বিদেশে পড়াশোনা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা

স্কলারশিপ

চীনের CSC স্কলারশিপ

IELTS

IELTS Writing Task 1: process diagrams (ইংরেজিতে)

IELTS

IELTS preparation guide (ইংরেজিতে)

বিদেশে পড়াশোনা

Academic CV for study abroad (ইংরেজিতে)

ক্যারিয়ার

Dental hygienist resume example (ইংরেজিতে)

আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

মাইটোসিস কোষ বিভাজন

মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।

SSC · HSC

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।

SSC · HSC

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।

HSC

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।

SSC · HSC

কোষীয় শ্বসন

কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।

SSC · HSC

এনজাইম ক্রিয়া

এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।

SSC · HSC

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া

বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

SSC

পরিপাকতন্ত্র

পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

Class 9 · SSC

শ্বাসক্রিয়ার কৌশল: প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস

মধ্যচ্ছদা, পর্শুকা আর আন্তঃপর্শুকা পেশি কীভাবে ফুসফুসে বাতাস ঢোকায় ও বের করে, চলমান চিত্রে দেখো। চাপমাপক, স্পাইরোমিটার রেখা, বেল জার মডেল আর বায়ুথলিতে গ্যাসীয় বিনিময়, সমাধানসহ।

HSC

প্রোটিন সংশ্লেষণ

আরএনএ পলিমারেজ কীভাবে জিন থেকে mRNA বানায় আর রাইবোসোম কীভাবে কোডন পড়ে প্রোটিন গড়ে, অ্যানিমেশনে নিজে দেখো। জিন বদলাও, মিউটেশন ঘটাও, কোডন সারণি মেলাও।

SSC · HSC

রক্ত সংবহন: দ্বি-সংবহন ও কার্ডিয়াক আউটপুট

রক্ত কীভাবে হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে, দেহে আর আবার হৃৎপিণ্ডে ফেরে, চলমান চিত্রে দেখো। ফুসফুসীয় ও সিস্টেমিক সংবহন, ধমনি-শিরা-কৈশিকনালির পার্থক্য, কার্ডিয়াক আউটপুটের অঙ্ক সমাধানসহ।

SSC · HSC

কোষের গঠন ও অঙ্গাণু: উদ্ভিদ কোষ বনাম প্রাণী কোষ

উদ্ভিদ কোষ আর প্রাণী কোষ পাশাপাশি দেখো। নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলজি বস্তু, রাইবোজোমসহ প্রতিটি অঙ্গাণুতে ক্লিক করে কাজ জানো। পার্থক্যের ছক, বিবর্ধনের অঙ্ক ও এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নসহ।

SSC · HSC

প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত চাপ

গরম কিছুতে হাত ঠেকালে সংকেত কীভাবে গ্রাহক, সংবেদী নিউরন, সুষুম্নাকাণ্ড, চেষ্টীয় নিউরন হয়ে পেশিতে পৌঁছায় নিজে চালিয়ে দেখো। প্রতিবর্তের সময় (২৪.৩৩ ms) হিসাব করো, আর দেখো ব্যথা কেন পরে টের পাওয়া যায়।

SSC · HSC

মানুষের চোখ: গঠন, প্রতিবিম্ব ও উপযোজন

কর্নিয়া, আইরিস, লেন্স, সিলিয়ারি পেশি, রেটিনা, পীতবিন্দু ও অন্ধবিন্দু কীভাবে কাজ করে, চলমান চিত্রে দেখো। উপযোজন, নিকট দৃষ্টি ও দূর দৃষ্টির সংশোধন, লেন্সের ক্ষমতার সমাধানসহ।

HSC

পেশি সংকোচন ও স্লাইডিং ফিলামেন্ট মডেল

সারকোমিয়ারের ভেতরে অ্যাকটিন ও মায়োসিনের সরে যাওয়া দেখুন। A ব্যান্ড থাকে ১.৬ µm, I ব্যান্ড ও H অঞ্চল ছোট হয়; ক্রস-ব্রিজ চক্র, ক্যালসিয়াম ও ATP ধাপে ধাপে শিখুন।

SSC · HSC

উদ্ভিদে পরিবহন: জাইলেম, ফ্লোয়েম ও বাষ্পমোচন

জাইলেম বেয়ে পানি ওঠা আর ফ্লোয়েম বেয়ে শর্করা নামা দেখুন। আলো, আর্দ্রতা ও বাতাস বদলে বাষ্পমোচনের হার হিসাব করুন (সাধারণ দিনে ৫৪.৮ g/m²/h)।

SSC · HSC

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল: শক্তির প্রবাহ ও ১০ % নিয়ম

খাদ্যজাল তৈরি করুন, একটি প্রজাতি সরিয়ে প্রভাব দেখুন, আর শক্তি পিরামিডে ১০ % নিয়ম চালান (উৎপাদকের ১০,০০০ kJ থেকে শীর্ষে থাকে মাত্র ১ kJ)।

HSC

জনসংখ্যা বৃদ্ধি: সূচকীয় ও লজিস্টিক রেখা

r আর ধারণক্ষমতা K টানুন এবং সূচকীয় ও লজিস্টিক রেখা আলাদা হতে দেখুন। r = ০.৪০ প্রতি ঘণ্টা আর K = ১,০০০ হলে কালচার প্রতি ১.৭৩ ঘণ্টায় দ্বিগুণ হয় এবং K-এর কাছে থামে।

HSC

প্রাকৃতিক নির্বাচন: পেপার্ড মথ ও কালিঝুলি মাখা গাছ

কালিঝুলির মাত্রা বাড়িয়ে-কমিয়ে দেখো পাখি কোন মথ ধরে। ৮০% কালি ও ৪০% নির্বাচনে গাঢ় মথ ১০% থেকে ১৫ প্রজন্মে ৯০% ছাড়িয়ে যায়।

SSC · HSC

রোগপ্রতিরোধ: প্রাথমিক ও গৌণ অ্যান্টিবডি সাড়া

টিকা নেওয়া ও না নেওয়া ব্যক্তির অ্যান্টিবডির মাত্রা এক গ্রাফে মিলিয়ে দেখো। এই মডেলে স্মৃতির কারণে সুরক্ষা পেতে ৮.১ দিনের জায়গায় লাগে ২.৫ দিন, আর চূড়া ৫.১ গুণ ওঠে।

SSC · HSC

পরাগায়ন ও নিষেক

পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ড, পরাগনালি বেয়ে ডিম্বকে পরাগরেণুর যাত্রা দেখো। দ্বিনিষেকে ১৪ ক্রোমোজোমের জাইগোট ও ২১ ক্রোমোজোমের ভ্রূণপোষ কীভাবে তৈরি হয়, তারপর বীজ ও ফল।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

পদার্থবিজ্ঞান

আলোর প্রতিসরণ

পদার্থবিজ্ঞান

ওহমের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

প্রাসের গতি

পদার্থবিজ্ঞান

সরল দোলক

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎ ক্ষেত্র

পদার্থবিজ্ঞান

তরঙ্গের ব্যতিচার

পদার্থবিজ্ঞান

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

নিউটনের গতির সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

পদার্থবিজ্ঞান

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

পদার্থবিজ্ঞান

নততল

পদার্থবিজ্ঞান

বৃত্তাকার গতি

পদার্থবিজ্ঞান

অনুপ্রস্থ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ

পদার্থবিজ্ঞান

লিভার ও ভ্রামক

পদার্থবিজ্ঞান

ভরকেন্দ্র

পদার্থবিজ্ঞান

স্প্রিং-ভর ও সরল ছন্দিত স্পন্দন

পদার্থবিজ্ঞান

ভেক্টর যোগ: ত্রিভুজ ও সামান্তরিক সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

আপেক্ষিক বেগ: ট্রেন ও নদী পারাপার

পদার্থবিজ্ঞান

কেপলারের সূত্র ও উপবৃত্তাকার কক্ষপথ

পদার্থবিজ্ঞান

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র, g ও কৃত্রিম উপগ্রহ

পদার্থবিজ্ঞান

তার ও নলে স্থির তরঙ্গ

পদার্থবিজ্ঞান

অনুনাদ নল ও শব্দের দ্রুতি

পদার্থবিজ্ঞান

স্বরকম্প: কাছাকাছি দুই সুরের স্পন্দন

পদার্থবিজ্ঞান

ডপলার প্রভাব: চলমান উৎস, চলমান শ্রোতা ও সনিক বুম

পদার্থবিজ্ঞান

প্রিজম, আলোর বিচ্ছুরণ ও রামধনু

পদার্থবিজ্ঞান

কির্শফের সূত্র: সংযোগ সূত্র ও বদ্ধ পথ সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

হুইটস্টোন ব্রিজ ও মিটার ব্রিজ

পদার্থবিজ্ঞান

একক চিড়ে অপবর্তন

পদার্থবিজ্ঞান

চোখের ত্রুটি ও তার প্রতিকার

পদার্থবিজ্ঞান

আলোর সমবর্তন: ম্যালাসের সূত্র ও ব্রুস্টারের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

ক্যাপাসিটরের আহিতকরণ ও নিরাহিতকরণ: আরসি সময় ধ্রুবক

পদার্থবিজ্ঞান

চৌম্বক ক্ষেত্ররেখা: দণ্ডচুম্বক, তড়িৎবাহী সরল তার ও সলিনয়েড

পদার্থবিজ্ঞান

এসি জেনারেটর

পদার্থবিজ্ঞান

ট্রান্সফর্মার

পদার্থবিজ্ঞান

তাপের সঞ্চালন: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ

পদার্থবিজ্ঞান

আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া: আইনস্টাইনের সমীকরণ ও নিবৃত্তি বিভব

পদার্থবিজ্ঞান

মোটর ক্রিয়া: তড়িৎবাহী তারের ওপর বল ও ডিসি মোটর

পদার্থবিজ্ঞান

গ্যাসের অণু ও গতিতত্ত্ব: চাপ, তাপমাত্রা ও দ্রুতি

পদার্থবিজ্ঞান

অর্ধপরিবাহী ডায়োড: p–n সন্ধি, I–V বক্ররেখা ও রেক্টিফায়ার

পদার্থবিজ্ঞান

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়: অর্ধায়ু, ক্ষয় সূত্র ও বিকিরণের ভেদন ক্ষমতা

পদার্থবিজ্ঞান

বোর পরমাণু মডেল: কক্ষপথ, শক্তিস্তর ও হাইড্রোজেনের বর্ণালি

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

রসায়ন

বিক্রিয়ার হার ও সংঘর্ষ তত্ত্ব

রসায়ন

পদার্থের অবস্থা: কঠিন, তরল, গ্যাসীয় ও তাপ–তাপমাত্রা লেখচিত্র

রসায়ন

পরমাণুর অরবিটাল: s, p, d-এর আকৃতি, কোয়ান্টাম সংখ্যা ও নোড

রসায়ন

আণবিক আকৃতি ও ভিএসইপিআর তত্ত্ব: বন্ধন জোড়, মুক্তজোড় ও বন্ধন কোণ

রসায়ন

মোল ধারণা: মোলার ভর, অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা ও মোলার আয়তন

রসায়ন

ব্যাপন ও নিঃসরণ: গ্রাহামের সূত্র

রসায়ন

রাসায়নিক সমীকরণ সমতাকরণ: পদ্ধতি, উদাহরণ ও অনুশীলন

রসায়ন

রাসায়নিক সাম্যাবস্থা: সাম্যধ্রুবক Kc ও লা শাতেলিয়ের নীতি

রসায়ন

টাইট্রেশন: অম্ল-ক্ষারের ঘনমাত্রা বের করার পদ্ধতি

রসায়ন

গ্যালভানিক কোষ: ড্যানিয়েল কোষ, EMF ও নার্নস্ট সমীকরণ

রসায়ন

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: জারণ সংখ্যা, ইলেকট্রন স্থানান্তর ও অর্ধ-সমীকরণ

রসায়ন

হাইড্রোকার্বন: অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন ও কাঠামোগত সমাণু ত্রিমাত্রায়

রসায়ন

কার্যকরী মূলক: অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যাসিড, এস্টার ও অ্যামিন

রসায়ন

পলিমারকরণ: যোজন ও ঘনীভবন পলিমার, পলিথিন ও নাইলন

রসায়ন

মিশ্রণ আলাদা করার পদ্ধতি: ছাঁকন, পাতন, ক্রোমাটোগ্রাফি, স্ফটিকীকরণ

রসায়ন

কেলাস জালক: SC, BCC ও FCC একক কোষ, প্যাকিং দক্ষতা ও ঘনত্ব

রসায়ন

তেজস্ক্রিয়তা: আলফা, বিটা, গামা ক্ষয় ও অর্ধায়ু

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক

গণিত

সেট ও ভেনচিত্র

গণিত

সরল সহসমীকরণ ও সরলরেখার লেখচিত্র

গণিত

sin, cos, tan-এর লেখচিত্র

গণিত

পূর্ণবর্গ পদ্ধতি ও দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধান

গণিত

বৃত্তের ক্ষেত্রফল: সূত্র, প্রমাণ ও সমাধান

গণিত

ঘনবস্তুর আয়তন ও তলের ক্ষেত্রফল: ঘনক, আয়তঘন, বেলন, কোণক, গোলক

গণিত

সদৃশ ত্রিভুজ: স্কেল ফ্যাক্টর, AA, SSS, SAS শর্ত ও ছায়া থেকে উচ্চতা

গণিত

স্থানাঙ্ক জ্যামিতি: দূরত্ব, মধ্যবিন্দু, ঢাল, বিভক্তিকরণ সূত্র ও সঞ্চারপথ

গণিত

শাঙ্কব ছেদ: বৃত্ত, উপবৃত্ত, পরাবৃত্ত ও অধিবৃত্ত

গণিত

ফাংশনের রূপান্তর: সরানো, টানা ও উল্টানো

গণিত

অন্তরীকরণ: স্পর্শকের ঢাল ও ছেদক থেকে স্পর্শক

গণিত

রিম্যান যোগফল ও সমাকলন: বক্ররেখার নিচের ক্ষেত্রফল

গণিত

সীমা ও ε–δ সংজ্ঞা: ছবিতে বোঝা

গণিত

ত্রিমাত্রিক ভেক্টর: যোগ, ডট গুণ ও ক্রস গুণ

গণিত

ম্যাট্রিক্স রূপান্তর: ঘূর্ণন, প্রতিফলন, শিয়ার ও নির্ণায়ক

গণিত

জটিল সংখ্যা: আরগান্ড সমতলে যোগ, গুণ, ঘাত ও মূল

গণিত

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি: স্থানীয় মান, রূপান্তর ও যোগ